
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেখানে চিকিৎসকের ‘ব্যবস্থাপত্র’ ছাড়াই অনুমোদনহীন অনেক ফার্মেসিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিকসহ নানা প্রকারের সংবেদনশীল ওষুধ। এলাকায় ‘ডাক্তার’ নামধারী হওয়ায় ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি নিজ দোকানে বসে নানা রোগের চিকিৎসা করছেন অনেক দোকানি। মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার লোভে রোগীদের হাতে বিভিন্ন ওষুধের সঙ্গে দামি অ্যান্টিবায়োটিক গছিয়ে দিচ্ছেন তারা। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন শিশুসহ এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতার সুযোগে অ্যান্টিবায়োটিকের অবাধ ব্যবহারের পাশাপাশি নামধারী ডাক্তারদের অপচিকিৎসা কার্যক্রম সহসা বন্ধ হচ্ছে না।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ পৌরশহর থেকে শুরু করে উপজেলার উজানচর, দৌলতদিয়া, ছোটভাকলা ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে রয়েছে দেড় শতাধিক ছোট-বড় ওষুধের দোকান (ফার্মেসি)। এর মধ্যে ৪৮টি ফার্মেসির ‘ড্রাগ লাইসেন্স’ থাকলেও অপর শতাধিক ফার্মেসির তা নেই। অনুমোদনহীন ওই সব ওষুধের দোকানিরা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবাধে ওষুধ বিক্রি করছেন। নিজ দোকানে বসে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি নানা রোগের চিকিৎসাও করছেন অনেকে। ‘ডাক্তার’ নামধারী হওয়ায় এলাকার অনেক রোগী তাদের কাছে যায়। এর মধ্যে নিম্নবিত্তের সাধারণ মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রমতে, মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্স তৈরি হয়। পরবর্তীতে রোগাক্রান্ত হলে ওই সব রোগীর, বিশেষ করে শিশুরোগীর শরীরে আর কোন অ্যান্টিবায়োটিক সহসা কাজ করে না।