ঢাকা বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

সালিশে ৫ লাখ টাকা জরিমানাসহ গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ
কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ভাইরাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক ছিন্নমূল পরিবারের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত রোববার রাতে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দুরা বাজারে সালিস বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায় উপস্থিত মানুষের দরবার সালিশে রিপন মিয়া তার অপরাধারে জন্য কয়েকজনের পায়ে ধরে ক্ষমা চাচ্ছে এবং সে তার অপরাধ স্বীকার করেছে বলেও জানায় স্থানীয়রা। জানা গেছে, নেত্রকোনা সদর উপজেলা দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মোক্তাল হোসেনের ছেলে রিপন মিয়া। তিনি ৫ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বেশ ক’বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিপন ফানি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি পেশায় ছিলেন একজন কাঠ মিস্ত্রি।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে দেশে বিদেশের নানান স্থানের ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। যে কারণে বিভিন্ন সময় রিপনের কাছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের যাতায়ত ছিল। তাই তার পাশের বাড়ির সরকারি রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় বসবাস করা ভুক্তভোগী মেয়েটির বাড়ীতেও রিপনের যাতায়াত ছিল বলে জানায় স্থানীয়রা। এলাকাবাসী সূত্র জানায়, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপন ভিডিও একই গ্রামের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটির পরিবারের দাবি রিপন ওই কিশোরীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। গত দুই দিন আগে আটটার দিকে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় কিশোরীকে কৌশলে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন। পরে স্থানীয় দুইজন ঘটনাটি দেখে ফেললে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজ করারও অভিযোগ ওঠে রিপনের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার জন্য দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা বাজারে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির কার্যালয়ে সালিশ বসে। সালিশে রিপন মিয়া উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা আবদুল হাই মুন্সি, আতাউর রহমান, স্থানীয় জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন, দৌলত মিয়াসহ এলাকাবাসী রোববার রাতে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির কার্যালয়ে সালিস বসে। সালিশে অভিযুক্ত রিপন মিয়া নিজের দোষ স্বীকার করেন।

পরে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা ৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়া সালিশের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন মিয়া সবার সামনে বলছেন আমার দোষ থাকলেও আছে, না থাকলেও আমি সবার সিদ্ধান্ত মেনে নেব। ছড়িয়ে পড়া বিষয়টিকে অনেকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

নাম প্রকাশে এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, ধর্ষণের মতো ঘটনা গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তি এটা ঠিক হয়নি। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। যাতে ভবিষ্যতে ধর্ষণের মতো এমন ঘটনা কেউ না ঘটায়। জানতে চাইলে সালিশে উপস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের মুঠোফোনে কল করতে তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকা ছেড়ে গা’ঢাকা দিয়েছেন। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে।

রিপন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী গর্ভবতী অবস্থায় পরিবারের লোকজন নিয়ে বসে আছেন, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবী করেন তার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে, দরবার এক পক্ষ ছিল, রিপনের পক্ষে রিপন ছাড়া তার পরিবারের আর কেউ উপস্থিত ছিলনা বলে দরবার সঠিক হয়নি বলে দাবি করেন তার স্ত্রী।

ভিকটিমরা বলেন, আমরা গরীব মানুষ স্বামী-স্ত্রী মিলে দক্ষিণ বিশিউড়া বাজারে একটি চায়ের দোকান চালাই। যে কারণে আমার কিশোরী মেয়ে বাড়িতে একা থাকে। এই সুযোগে পার্শ্ববর্তী বাড়ির রিপন মিয়া (কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপন ভিডিও) ঘরে ডুকে আমার মেয়ের ইজ্জত মেরেছে। আমরা গরীব মানুষ হওয়ায় এলাকার মাতব্বররা বিচার করে। তবে আমি প্রশাসনের সহযোগিতার মাধ্যমে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

ঘটনার পর থেকে রিপন ভিডিও গা ঢাকা দিয়েছে, তাকে একাধিক বার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। এদিকে শালিশের পর থেকে ভিকটিমকেও অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের ঘটনা সালিশ দরবারের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে শুনেছি। ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মতো ঘটনায় কোন ধরনের সালিশ দরবারের মাধ্যমে মীমাংসা করার সুযোগ নেই। এ ঘটনাটি যারা সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করতে চেয়েছিল তার প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত