ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিনা পারিশ্রমিকে এক যুগ ধরে মসজিদে আজান দিচ্ছেন হোসেন আলী

বিনা পারিশ্রমিকে এক যুগ ধরে মসজিদে আজান দিচ্ছেন হোসেন আলী

টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রায় এক যুগ ধরে বিনা পারিশ্রমিকে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দিয়ে আসছেন মো. হোসেন আলী (৬৫)। শুধু আজান দেওয়াই নয়, নিজের দায়িত্ববোধ থেকে মসজিদ ঝাড়– দেওয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজও করে আসছেন তিনি। হোসেন আলী উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের গায়েনমোড় এলাকার বাসিন্দা। প্রায় এক যুগ আগে গায়েনমোড় এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে আজান দিয়ে মুসল্লিদের নামাজের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছেন। এ কাজের জন্য তিনি কোনো বেতন বা পারিশ্রমিক নেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়েনমোড়ের পূর্ব নাম ছিল ‘পাইনার বাইদ’। ছোটচওনা ও বড়চওনার মধ্যবর্তী এ স্থানটি উপজেলার কাকড়াজান ও বড়চওনা ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। সেখানেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা হোসেন আলীর। হোসেন আলীর বাবা মোহাম্মদ আলী ও মা মোছা. শাহাতন নেছা। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের হোসেন আলী একসময় টুকটাক ব্যবসা-বাণিজ্য করলেও বর্তমানে তার কোনো ব্যবসা নেই। মসজিদকেন্দ্রিক সেবাই এখন তার দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম কাজ। হোসেন আলী বলেন, মসজিদ হচ্ছে আল্লাহর ঘর। আমি দিনে পাঁচ ওয়াক্ত আজান দিই, মানুষকে আল্লাহর ঘরে ডাকি- এটা সওয়াবের কাজ। এখানে বেতনের হিসাব-নিকাশ আমি করি না। মহান আল্লাহর হুকুম পালন করা একজন মুসলমান হিসেবে এটি আমার দায়িত্ব এবং সমাজের একজন মানুষ হিসেবে এটাকে আমি কর্তব্য মনে করি। তিনি আরও বলেন, আমি এই কাজ না করলে হয়ত অন্য কেউ করত। মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে দিয়ে আজান দেওয়ার কাজটি করাচ্ছেন। এটি আমার সৌভাগ্য, পরম পাওয়া। আমি আজান দিয়ে শান্তি ও তৃপ্তি পাই। মনে আনন্দ নিয়েই এই কাজ করি। মরার আগ পর্যন্ত এই কাজ করে যেতে চাই। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা ছাড়াই হোসেন আলী মসজিদে আজান দেওয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই নিঃস্বার্থ সেবাকে এলাকার মানুষ প্রশংসার চোখে দেখেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত