ঢাকা রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর

দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর

ফরিদপুর সদর উপজেলায় মাদকসংক্রান্ত বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের বাধা ও হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে এর পর্দা ছিঁড়ে ফেলা এবং গাড়ির চাবি নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত রাজা মিয়া (৭০) ও জয়নাল শিকদারকে (৬৫) উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুল হাসান। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় স্থানীয় যুবক শাকিল ও তার কয়েকজন বন্ধু ইয়াবা সেবন করছিলেন। এ সময় টুলু মিয়া, সুমনসহ কয়েকজন মোবাইল ফোনে ওই দৃশ্য ধারণ করেন। পরে ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে শাকিলের কাছে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর শাকিলের পক্ষের লোকজন টুলু মিয়াকে টাকা নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। টুলু সেখানে গেলে তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর জের ধরে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে টুলু মিয়া পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলে লোকজন নিয়ে গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড়ে যান বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। সেখানে আগের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুদিদোকানি বক্কার শিকদার ও মান্নানকে মারধর করে তারা চলে যান বলে অভিযোগ। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বক্কার শিকদারের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তাঁরা টুলু মিয়াকে না পেয়ে তাঁর বাবা রাজা মিয়া ও স্থানীয় জয়নাল শিকদারকে মারধর করেন। পরে কয়েকশ লোক তাদের ঘিরে রাখেন বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশের কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের পিকআপ ভ্যানে হামলা চালিয়ে এর পর্দা ছিড়ে ফেলেন এবং গাড়ির চাবি নিয়ে যান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান কোতোয়ালি থানার ওসি। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর আহত রাজা মিয়া ও জয়নাল শিকদারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু মৃধা বলেন, টুলু মিয়া ওমানে থাকেন। মাঝেমধ্যে দেশে এসে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। শুক্রবারের ঘটনার পর শনিবার সকাল ১০টার ফ্লাইটে তিনি আবার ওমানে চলে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি। মিন্টু মৃধার দাবি, আগের ঘটনার দিন টুলুর ভাই নিলু মিয়া রামদা নিয়ে এলাকায় এসেছিলেন। তখন বক্কার শিকদারের ছেলে লালচান তাকে আটক করে পুলিশে দেন। এর জেরেই শুক্রবার বক্কার শিকদারকে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্কার শিকদার ও টুলু মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মাহামুদুল হাসান বলেন, স্থানীয় আধিপত্য, মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা করে পিকআপ ভ্যানটি ভাঙচুর করা হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত