ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ছয় মাস ধরে ছেলের লাশের অপেক্ষায় মা-বাবা

ছয় মাস ধরে ছেলের লাশের অপেক্ষায় মা-বাবা

আমি মরে যাইতাম, আমার বুকের ধন সন্তানটা যদি বাঁইচা থাকত। তাহলে মরেও শান্তি পাইতাম। শেষবারের মতো ছেলের মুখটা এক নজর দেখতে চাই। কেউ আমার ছেলের লাশটা আইন্না দেও। কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই আকুতি জানাচ্ছিলেন আছিফ খানের মা। সংসারের অভাব ঘোচাতে, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে স্বপ্ন নিয়ে কম্বোডিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দোলবাড়ীয়া কর্চাডাঙ্গা লাইনপাড়ার ২৮ বছর বয়সী আছিফ খান। জানা যায়, বিদেশে যাওয়ার মাত্র দুই মাস ১৭ দিনের মাথায় সেই স্বপ্নই যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে গুরুতর আহত হন আছিফ। হাসপাতালে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সেখানেই মারা যান তিনি। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও দেশে ফেরেনি আছিফের লাশ।

ছেলেকে হারানোর শোক বুকে চেপে দিনের পর দিন অপেক্ষা করছেন বাবা-মা। জীবিত ছেলেকে আর ফিরে পাবেন না-এই বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন তারা। এখন তাদের একটাই চাওয়া, অন্তত শেষবারের মতো সন্তানের মুখটি যেন দেখতে পারেন। আছিফের বাবা-মা কান্নাভেজা চোখ নিয়ে বলেন, 'আমাদের ছেলেকে আর জীবিত পাব না জানি। শুধু শেষবারের মতো আমারা সন্তানের মুখটা দেখতে চাই। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমাদের ছেলের লাশটা দেশে ফিরিয়ে দিন। পরিবারের অভিযোগ, ভালো কাজের আশ্বাস দিয়ে আছিফকে বিদেশে নেওয়া হলেও সেখানে তাকে ভিন্ন কাজে নিয়োজিত করা হয়।

লাশ দেশে ফেরাতে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ করেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি পরিবারের। ছেলের মৃত্যুর শোক পেরিয়ে ছয় মাস ধরে শুধু লাশ ফেরার অপেক্ষায় পরিবারটি। তাদের আকুতি-আর দীর্ঘ অপেক্ষা নয়। দ্রুত কম্বোডিয়া থেকে আছিফ খানের লাশ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। শেষবারের মতো বাবা-মায়ের সামনে সন্তানের মুখটি তুলে দেওয়া হোক।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত