
কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্রভাঙনে বাস্তুহারা হয়ে পরেছে অনেক পরিবার। বর্তমানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ (বেড়িবাঁধ) হুমকির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী বসুনিয়াপাড়ার প্রায় দু'শতাধিক বাড়ি-ঘর। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম তিস্তার আগ্রাসনে বাস্তুহারা হয়েছে ওই এলাকার অন্তত ২ শতাধিক মানুষ। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও কয়েক শত পরিবার। এছাড়া, দলদলিয়া ইউনিয়নের কর্পূরা মৌজার ঐতিহ্যবাহী বসুনিয়াপাড়ার শতাধিক বাড়ি-ঘর নদীর তীব্রভাঙনে সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। হুমকির মুখে পরেছে কয়েকটি স্থাপনা, ফসলি জমি। নদীগর্ভে বিলীনের অপেক্ষায় কর্পূরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বসুনিয়াপাড়া জামে মসজিদ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গত বর্ষা মৌসুমের আগে কর্পূরা বসুনিয়াপাড়া রক্ষায় কিছু জিওব্যাগ ডাম্পিং করলেও তা খরস্রোতে নদীর গর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। সোমবার ভাঙনকবলিত বসুনিয়াপাড়া গ্রামে তিস্তার তীরে ভাঙনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে। গত ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে ভয়াবহ ভাঙনের তাণ্ডবে প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, গাছপালা, আবাদি জমি, কবরস্থান গিলে খেলেছে তিস্তা নদী। আরও অনেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের বাড়ি-ঘর।
তিস্তার ভাঙনে ছয়বার ভিটে সরিয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বাতেন ও আশরাফুল আলী। সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে তারা ভিটে সরিয়ে অন্যত্র নিয়েছেন। রেজোয়ান ও সিকেদ্দার বসুনিয়া বলেন, 'ছয়বার বাড়ি সরাই, বুকের ভিতরাটা ভাঙি যায়। এতবার ভিটা ভাঙে, তাও কাইয়ো শোনে না-দেখে না,বা। আমরা খুব অসহায়।'
কান্নাজড়িত কণ্ঠে একই কথা বললেন, ঐ এলাকার পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী আঃ মান্নান। তিস্তার ভাঙনে সর্বহারা হয়ে এখন ফকির হতে হয়েছে অনেক কে। বাড়ি-ঘর সরাতে সরাতে হাফসি গেছে আবু বক্কর, এরশাদুল, আব্দুল মালেক, আঃ সামাদ, মজিবর, সেকেন্দার, জামাতাল্লী, আশরাফুল, ফারুকসহ ভুক্তভোগীরা।