ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

চুয়াডাঙ্গায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বেড়েছে। চলতি মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় ৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চাপ বেড়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে নারী ওয়ার্ডে ১৯ জন এবং পুরুষ ওয়ার্ডে ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে নারী ওয়ার্ডে নির্ধারিত তিনটি শয্যার বিপরীতে চারজন এবং পুরুষ ওয়ার্ডে ছয়টি শয্যার বিপরীতে সাতজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী সাইদুর রহমান বলেন, কয়েকদিন ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসা নেওয়ার পর ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

আরেক রোগী শফিকুল বলেন, ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে বাড়িতে আসার পর মাথাব্যথা, খাবারে অরুচি ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। জ্বর না কমায় ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে ফল পজিটিভ আসে। পরে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছে। বর্তমানে হাসপাতালের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের যথাযথ ও সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। তিনি আরও বলেন, অপরিচ্ছন্নতা ও অসচেতনতার কারণে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়তে পারে। এ রোগ প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রেখেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কোথাও যেন পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত