ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ব্যবসার জমিতে বসতবাড়ি সংকুচিত হচ্ছে হাট-বাজার

ব্যবসার জমিতে বসতবাড়ি সংকুচিত হচ্ছে হাট-বাজার

পিরোজপুরের কাউখালী হাট-বাজারে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যবসার জন্য একসনা বন্দোবস্ত নেওয়া চান্দিনা ভিটির জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে বাজার সম্প্রসারণের সরকারি উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সংকুচিত হয়ে পড়ছে প্রাচীন এ হাট-বাজারের পরিধি। ফলে হাটের দিন ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাউখালী হাট-বাজারের পরিধি বাড়েনি। অথচ জনসংখ্যা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমেই বাড়ছে। বাজার সম্প্রসারণের দাবিতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে উপজেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ নেয়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখা বাজার সম্প্রসারণের কার্যক্রম শুরু করলেও তার বদলির পর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বাজার সম্প্রসারণের কাজ থেমে যায়। সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একসনা বন্দোবস্ত নেওয়া অনেক জমিতে দোকান নির্মাণ না করে বসতবাড়ি তৈরি করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ এসব স্থাপনা ভাড়া দিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের পরিবর্তে আবাসিক কাজে ব্যবহার করছেন। এমনই একজন আব্দুল মান্নান জানান, ২০১৬ সালে চার ব্যক্তির নামে একসনা বন্দোবস্ত থাকা দুই শতাংশ জমি তিনি কিনেছেন। তবে জমি কেনার কোনো দলিলপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। তার দাবি, আশপাশে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় কয়েক লাখ টাকা খরচ করে তিনি সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া আবুল কাশেম নামের আরেক ব্যক্তি দোকানের জন্য বরাদ্দ নেওয়া জায়গায় বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন বলে স্থানীয়রা জানান। দক্ষিণ বাজারের কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, তাদের বসবাসের নিজস্ব বাড়ি নেই। বসবাসের উপযোগী জায়গা পেলে তারা সেখানে দোকান করে ব্যবসা করতে চান। তবে দোকানের জন্য বরাদ্দ নেওয়া জমিতে এভাবে বসতবাড়ি নির্মাণ করায় বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তি একসনা বন্দোবস্ত নিয়ে দোকান নির্মাণের পরিবর্তে বাড়িঘর তৈরি করে বসবাস করছেন কিংবা ভাড়া দিচ্ছেন। এতে বাজারের ব্যবসায়িক পরিধি কমার পাশাপাশি সরকারও বিপুল রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে, হাটের দিন ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তারা ফুটপাত ও সড়কের দুই পাশে পসরা সাজিয়ে বসছেন। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারাও দুর্ভোগে পড়ছেন।

জানা গেছে, ১৯৯৮-৯৯ সালে কাউখালী হাট-বাজারকে পেরিফাই করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পণ্য বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে এসব নির্ধারিত স্থানের কিছু অংশও দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কেউ কেউ নির্ধারিত টোলঘর দখল করে ব্যক্তিগত দোকান নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে জায়গা দখল করে রেখেছেন। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত স্থানে বসতে না পেরে রাস্তার পাশে দোকান বসাতে বাধ্য হচ্ছেন। ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, কাউখালী হাট-বাজারে এ পর্যন্ত ৬৭৫টি দোকান বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে এ সংখ্যা কমবেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য বন্দোবস্ত নেওয়া জমিতে দোকান নির্মাণ না করে আবাসিক কাজে ব্যবহার করায় প্রতি বছর বাজারের কার্যকর পরিধি কমছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারও লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। স্থানীয়দের দাবি, একসময় এ হাট থেকে সরকার বছরে প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধাও নেই। ফলে দীর্ঘদিনের পুরোনো এ বাজারটি দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে দক্ষিণ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোয়াইফ সিদ্দিকী বলেন, "অবৈধ দখল, চান্দিনা ভিটির জায়গায় নির্মিত বসতবাড়ি এবং অবৈধ দখলে থাকা টোলঘরগুলো দখলমুক্ত করে বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাজারের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর এমপিকে অবহিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত