
কুমিল্লার তিতাসে দড়িকান্দিতে গত চার বছরেও শেষ হয়নি সাড়ে ৫ কোটি টাকার সেতুর ২০ শতাংশ কাজ। ফলে এলাকার মানুষের জন্য একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রাম সংলগ্ন খালের ওপর ২০২২ সালে ৫০ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ অনুমোদন হয়। জিসিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ৫ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার ৯০৪ টাকার সেতুটি নির্মাণের টেন্ডার পায় গ্রীন এম.কে (জেবি) কোম্পানি।
২০২২ সালের ২৪ আগষ্ট কাজের কার্য্যাদেশ প্রদান করা হয়। যার মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। উক্ত সময়ে সেতুর কাজ অসমাপ্ত থাকায় প্রথম দফায় ১ বছর ও পরবর্তীতে ৬ মাস বর্ধিত করে ২০২৫ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। দেশের প্রেক্ষাপটের কারণে কাজটি কিছু দিন বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ২৬ জুন নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শন করেন তাৎকালীন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী। তখন তিনি কাজটি বাতিল করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চিঠি দেন। ঐ বছরের ৬ জুন পর্যন্ত সেতুর ৮০ ভাগ কাজ শেষ হলেও ২০ ভাগ কাজ অবশিষ্ট থেকে যায়। পরে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এলজিইডি কর্র্তৃপক্ষের কাছে সেতুর কাজ চলমান রাখার জন্য একাধিকবার আবেদন করেন।
এছাড়া কাজটি বাস্তবায়নের জন্য গৌরীপুর-হোমনা সড়কের দড়িকান্দি ব্রিজ সংলগ্ন এবং জেলা পরিষদের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গ্রামবাসী মানববন্ধন করেন। দড়িকান্দি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত নায়েব সুবেদার মো. ফারুক কামাল, প্রধান শিক্ষক মো. সাখাওয়াত হোসেন ও মো. হুমায়ুন কবির, জিয়ারকান্দি ইউপি দড়িকান্দির মহিলা সদস্য হাসিনা আক্তার ও পুরুষ সদস্য মো. শাহ আলী জানান, তখন প্রশাসন চাইলে আমাদের কাজটি দ্রুত শেষ করতে পারতো। উপজেলা পর্যায়ে অনেক কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পে-অর্ডার জমা রাখার মাধ্যমে অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু দড়িকান্দির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলো এবং সমস্যাটি স্থায়ী আকার ধারণ করেছে। গ্রামটিতে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, একটি কিন্ডার গার্টেনসহ ছোট্ট একটি হাট রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র। সবমিলিয়ে এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। প্রতিবছর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে টাকা উত্তোলন করে বাঁশের সাকোঁর মাধ্যমে আমাদের পারাপার হতে হচ্ছে। বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, অনেক দিন কাজটি বন্ধ থাকার কারণে এটি ২০ শতাংশ থেকে এখন একটু বেশি করতে হবে। আগের কাজটি বাতিল হওয়ায় আমরা নতুন করে অবশিষ্ট কাজের প্রাক্কালন ব্যয় নির্ধারণ করে (প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা) প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত প্রাক্কালন ব্যয় অনুমোদন হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি মহোদয়ের তদারকির কারণে জেলা ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা সাইটটি পরিদর্শন করেছেন। প্রাক্কালন ব্যয় অনুমোদন হলে আশা করি আগামী জুনের মধ্যে সেতুটি চলাচলের উপযোগী হবে।