
সিরাজগঞ্জে চরাঞ্চলসহ আগাম মুলাশাক (শাক মুলা) চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। খরচ কম লাভ বেশি এ শাক চাষাবাদে ঝুকে পড়েছে কৃষকেরা। বাজার ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
ইতোমধ্যে অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতাও ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলসহ এ জেলার বিভিন্ন স্থানে এবার প্রায় সাড়ে ৪'শ হেক্টর জমিতে এ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দেড় মাস আগে হাইব্রিড জাতের এ মুলা শাকের চাষাবাদ করেছে। তবে উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ আগাম শীতকালীন মুলার শাক বেশি চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ নতুন মুলার শাক স্থানীয় হাট-বাজারে উঠছে। পাইকারী শাক ব্যবসায়ীরা এ শাক ক্রয় করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে।
স্থানীয় হাট বাজারে এ নতুন মুলার শাকের চাহিদাও বেশি। বর্তমানে হাট-বাজারে প্রতি মুঠো (১ আটি) মুলার শাক ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা বলছে, চরাঞ্চল, নদী নালা খাল বিল ও বালি মাটিতে এ মুলার শাক চাষাবাদ করা হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো এ লাভজনক চাষে কৃষকেরা ঝুকে পড়েছে। নারীরা এ মুলার শাকের বাগান পরিচর্যা বেশি করছে। ইতিমধ্যেই এ মুলার শাক বিক্রি করে অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরছে। শীত শুরু হতে না হতেই এ শাকের কদরও বাড়ছে। এ শাক ভাজি, তরকারি ও ছোট চিংড়ি মাছের পিটুলিতে খেতে অনেক মজা। এ কারণে স্থানীয় হাট বাজারে এ মুলার শাক কেনাকাটাও বেশি হচ্ছে। এছাড়া মুলার শাকের বাগান থেকেও এ মুলা শাক বিক্রি হয়ে থাকে। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসিও ফুটেছে। এরমধ্যে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বীর ভদ্রঘাট গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ১ বিঘারও বেশি জমি লিজ নিয়ে এ মুলার শাক চাষাবাদ করেছে। এ চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ১০ হাজার টাকার মুলার শাক বিক্রি করেছেন এবং আরো ২০ হাজার টাকার এ শাক বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো কৃষকেরা আগাম মুলাশাক চাষাবাদ করেছে। এ হাইব্রিড জাতের মুলার শাক চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ শাকের বাজার ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে এবং অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতাও ফিরে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।