
রংপুরের তারাগঞ্জে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ১১৭ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের থানার মোড় এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে কনক কুমার দত্ত (৫৭) নামে এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাঁকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের জন্য সরবরাহ করা রাসায়নিক সার অবৈধভাবে মজুত রাখার তথ্য পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। রাত ১১টার পর কুর্শা ইউনিয়নের থানার মোড় এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোনাববর হোসেন। অভিযানে কনক কুমার দত্তের হেফাজত থেকে বিভিন্ন ধরনের মোট ১১৭ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা সারের মধ্যে রয়েছে ৬০ বস্তা এমওপি, ৩০ বস্তা ডিএপি, ১৫ বস্তা ইউরিয়া ও ১২ বস্তা টিএসপি সার। উদ্ধার করা এসব সারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কনক কুমার দত্তকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশ দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত কনক কুমার দত্ত (৫৭) কুর্শা বাজারের থানাপাড়া এলাকার মৃত কৃষ্ণ কুমার দত্তের ছেলে।
অভিযান শেষে জব্দ করা সার সরকারি গুদামে জমা দেওয়ার জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযানে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও তারাগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সার। বিশেষ করে ফসলের মৌসুমে সারের সরবরাহ ও বাজারমূল্য স্বাভাবিক রাখা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এ সময়ে কেউ অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে তার প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর পড়ে। তাই সারের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রমে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোনাববর হোসেন বলেন, কৃষকদের সার নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি বরদাশত করা হবে না। অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। সারের মজুত কিংবা বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকরা যাতে হয়রানি ছাড়াই ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।