প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০২ জানুয়ারি, ২০২৬
সন্তানদের একটা সাধারণ অভিযোগ থাকে যে বাবা-মা তাকে বোঝার চেষ্টা করছে না- একইভাবে বাবা-মায়ের ও অভিযোগ থাকে যে, আমি তো সন্তানের ভালো চাচ্ছি তবুও কেন সন্তান বুঝতে পারে না বাবা-মায়ের কষ্ট। এক্ষেত্রে বাবা-মা ও সন্তানের এরূপ ধারণা ক্ষেত্রে মূলত পরিবারের সঙ্গে শিশুর সংযোগের অভাব পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে বাবা-মার সঙ্গে শিশুর সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সন্তানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বলতে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তার জায়গা থেকে বোঝার চেষ্টা করাকে বোঝায় সেই সাথে তার মন খারাপ বা কষ্টকে হালকা করে উপস্থাপন না করা।
শিশুদের সব সময় ছোট বাচ্চা হিসাবে বিবেচনা করা যাবে না। তাদের সম্মান দিতে হবে। তাদের নিজেদের পছন্দ অপছন্দ প্রকাশ করার সুযোগ দিতে হবে অর্থাৎ তাদের আবেগকে এড়িয়ে না গিয়ে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। অভিভাবকদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা জরুরি যেমন: কোন শিশু কোন একটি খাবার খেতে চাচ্ছে না খাবারটি পুষ্টিকর; কিন্তু সে যখন না খাওয়ার জেদ করেছে তখন তার মুড সুইংয়ের বিষয়টি অভিভাবকদের দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। তার জন্য বিকল্প পছন্দের খাবার দেওয়া যেতে পারে কিংবা তার সাথে একত্বতা পোষণ করে তাকে বোঝাতে হবে যে, এই মুহূর্তে খাবারটি তো অপচয় করা যাবে না। পরবর্তীতে আমি নিশ্চয়ই তোমার পছন্দের বিষয়টি তোমাকে দেওয়ার চেষ্টা করব। তার মতামতকে মূল্যায়ন করতে হবে যেমন- কোন কাজ কিংবা তার জন্য কোন জিনিস পছন্দ করার ক্ষেত্রে তার পছন্দ অপছন্দকে প্রাধান্য দেওয়া চেষ্টা করতে হবে। ঘরের টুকিটাকি কাজে শিশুকে সম্পৃক্ত করা হয়তো এতে করে কাজ আরও বাড়তে পারে; কিন্তু এভাবে পরিবারের সাথে শিশুর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পায়।
শিশু যখন কোন বিষয়ে মতামত দেয়, তখন যতই ব্যস্ততা থাকুক শিশুর কথায় পূর্ণাঙ্গ মনোযোগ দেওয়া উচিত কেননা, এভাবে শুনে চোখে চোখ রেখে কথা বলার মাধ্যমে শিশুর যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং শিশু শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়ে ওঠে মনে রাখতে হবে আমি যেমন শিশু সামনে নিজেকে প্রদর্শন করব শিশু তাই শিখবে। তাই শিশুর সামনে এমন কোনো নেতিবাচক আচরণ করা যাবে না- যা শিশুকে খারাপভাবে প্ররোচিত করে। বাবা-মা মনোযোগ দিয়ে শিশুর কথা শোনার মাধ্যমে শিশু বুঝতে পারে কীভাবে অন্যদের সাথে যোগাযোগ করতে হয় সন্তানের যে কোনো বিষয় হ্যাঁ কিংবা নাতে উত্তর না দিয়ে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে যৌক্তিক ও অযৌক্তিক চিন্তা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় শিশুর চিন্তাচেতনা প্রসারিত হয়, একইভাবে সে অভিযোগ না রেখে পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করে।
শৈশব থেকেই সন্তানের যত ভালো সম্পর্ক বাবা-মায়ের সঙ্গে তৈরি হয় পরবর্তী সময়ে তা সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বর্তমান সময়ে শিশুদের যে ডিপ্রেশন, হতাশা, ভয় ও নেতিবাচক ভাবনা কাজ করে তার অধিকাংশর জন্য দায়ী কিন্তু পরিবারের সঙ্গে শিশুর সম্পৃক্ততার অভাব তাই, আসুন শিশুকে সঠিক সময় দেওয়ার মাধ্যমে তার সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করি।
তৈয়বা খানম
শিক্ষার্থী, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম