ঢাকা শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

শিক্ষার বাজারিকরণ ও তরুণদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন
শিক্ষার বাজারিকরণ ও তরুণদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সামনে সবচেয়ে বড় ভয়ের নাম হলো অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। যে তরুণরা একটি জাতির মেরুদণ্ড এবং আগামীর কাণ্ডারী, তাদের একটি বড় অংশ আজ অন্ধকারের চোরাবালিতে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। এই ভয়ের মূলে রয়েছে শিক্ষার চরম বাণিজ্যিকীকরণ এবং মেধার বিপরীতে অর্থের আস্ফালন। বর্তমান সময়ে শিক্ষা আর পাঁচটা মৌলিক অধিকারের মতো নেই, বরং তা পরিণত হয়েছে একটি লাভজনক পণ্যে। উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী শ্রেণির জন্য শিক্ষার সুযোগ অবারিত থাকলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য তা এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন জ্ঞান বিতরণের চেয়ে সার্টিফিকেট বিক্রির কারখানায় পরিণত হয়েছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন।

এই বাণিজ্যিকীকরণের ফলে শিক্ষার পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা মেটাতে গিয়ে সাধারণ পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। অথচ পড়াশোনা শেষে যখন একজন শিক্ষার্থী কর্মজীবনে প্রবেশের চেষ্টা করে, তখন সে দেখতে পায় তার অর্জিত ডিগ্রি বর্তমান বাজার চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। এই ব্যবধানই তরুণদের মনে প্রথম ভয়ের বীজ বপন করে এবং তাদের আত্মবিশ্বাসকে নাড়িয়ে দেয়। শিক্ষার বাজারিকরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের অভাব তরুণদের স্বপ্নগুলোকে তিলে তিলে হত্যা করছে। আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে ডিগ্রি শেষ করার পর যখন বছরের পর বছর চাকরির জন্য হাহাকার করতে হয়, তখন সব উদ্যাম বিষণ্ণতায় রূপ নেয়। বিশেষ করে চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং স্বজনপ্রীতির মতো ঘটনাগুলো তরুণদের মনে রাষ্ট্র ও ব্যবস্থার প্রতি চরম অনাস্থা তৈরি করেছে। তারা দেখতে পায়, যোগ্যতার চেয়ে তদ্বির বা অর্থের জোর অনেক ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। এমন এক বৈরী পরিবেশে মেধাবী তরুণরা নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে সংকটে পড়ে। এই অনিশ্চয়তা থেকেই তাদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সামাজিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চাপে অনেক তরুণ এখন সৃজনশীল পেশার বদলে শুধু টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন

শিক্ষার্থী বাংলা বিভাগ

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত