ঢাকা রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বৈশ্বিক উষ্ণতা জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ

লোটাস জাহাঙ্গীর
বৈশ্বিক উষ্ণতা জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন একটি পরিবেশগত সংকট, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, চরম আবহাওয়া এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। শিল্পোন্নত দেশগুলোর শতাব্দীজুড়ে কার্বন নিঃসরণের ফল আজ সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে উন্নয়নশীল ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো।

আন্তঃসরকার জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (IPCC)-এর সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, শিল্প- পূর্ব সময়ের তুলনায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এরইমধ্যে প্রায় ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে দক্ষিণ এশিয়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু-সংবেদনশীল অঞ্চলে। ২০২৩ সালে এই অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪৮-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ও শ্রম উৎপাদনশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

গ্রীষ্মকাল দীর্ঘতর হচ্ছে এবং শীতকাল ক্রমশ সংক্ষিপ্ত হয়ে পড়ছে- যা কৃষি চক্রকে ব্যাহত করছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি সরাসরি প্রভাব হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। বৈজ্ঞানিক পরিমাপ অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে ৩-৪ মিলিমিটার করে সমুদ্রপৃষ্ঠ উঁচু হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে এই হার আরও বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ এলাকা স্থায়ীভাবে প্লাবিত হতে পারে, যার ফলে প্রায় ৩ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সরাসরি জলবায়ুর ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে ধান ও গমের উৎপাদন গড়ে ৫-১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

দেশের লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে এরইমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চল গুলোতে ধান চাষ সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে অনিয়মিত বৃষ্টি, খরা, ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ ও বন্যার ঝুঁকি একসঙ্গে বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়- এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও হুমকি। আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের জিডিপি ২-৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্নআয়ের মানুষ, যারা কৃষি ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। এই সংকট মোকাবিলায় নদী ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ পূর্বাভাস, তাপপ্রবাহ সতর্কতা, জলবায়ু অভিযোজন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কোনো দূরবর্তী ভবিষ্যৎ নয়- এটি আমাদের বর্তমান বাস্তবতা।

বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও মানবিক দৃষ্টিকোণ- সব দিক থেকেই এটি একটি প্রমাণিত সংকট। সচেতনতা ও সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা অসম্ভব।

লোটাস জাহাঙ্গীর

দৌলতপুর, কুষ্টিয়া

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত