প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হলো বই পড়া, গল্প করা। অনেক সামর্থ্যবানের বাড়িতে নিজস্ব গ্রন্থাগার। সেসব এখন শুধু অতীত। এ যুগে ঘরে ঘরে পাঠাগার না পাওয়া গেলেও স্মার্টফোন ঠিকই পাওয়া যায়। তাতে কি খিদে মেটে! মানুষের শরীরের জন্য যেমন খাদ্যের দরকার, তেমনি মনের প্রয়োজন ‘মনের খাদ্য’। এ প্রয়োজন মেটাতে পারে ‘ভালো বই’। কিন্তু নতুন প্রজন্ম আগ্রহ হারাচ্ছে বইয়ের প্রতি। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আগামী প্রজন্ম আস্তে আস্তে ভুলেই যাবে বই পড়ার কথা। উঠে যাবে বই পড়ার মনোযোগ। এ মনোযোগটা হারিয়ে না গিয়ে বিচরণ করুক প্রতিটি মানুষের মনের মধ্যে।
যত কিছুই বলা হোক না কেন, নিজের মনোযোগ কীভাবে নিজের কাজে বা পড়াশোনায় দেবেন, সেটা নিজেকেই ঠিক করে নিতে হবে। আপনার মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে, তাহলেই আপনার সাফল্য আটকে রাখার মতো কেউ থাকবে না। শুরু করাটা খুব বেশি জরুরি। সুন্দরভাবে শুরু করলে ঠিকই পড়া বা কাজ এগিয়ে যায়, কিন্তু অনেক সময় এই শুরুটাই করা হয়ে ওঠে না বলেই আমাদের মনোযোগ বসে না। তাই, আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরু করা উচিত।
একটা পরিবেশ নিজের জন্য ঠিক করে নেওয়া। যেমন- জানালার পাশের জায়গাটা কিংবা কোনো পাবলিক লাইব্রেরি, যেখানে আরও অনেককে পড়াশোনা করতে দেখলে আমাদেরও পড়তে ইচ্ছা করবে। একটা রুটিন করে নেওয়া ভালো। রুটিন করলে সেটার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে হবে। রুটিন মাফিক চালানো উচিত। আপনার ব্রেইন শান্ত হয় না আর এর প্রভাব আপনার পড়াশোনাও পরে। ফলে, আপনার পড়তে বিরক্ত লাগে। একজন স্বাভাবিক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ব্রেইনকে ঠান্ডা করতে রাতের ঘুম বেশি কার্যকর দিনের ঘুমের চাইতে। আপনার মাথা যদি ঠান্ডা না থাকে তাহলে আপনি কোনো কাজই ঠিকভাবে করতে পারবেন না। অতএব পর্যাপ্ত ঘুম পড়াশোনায় মনোযোগ আনার অন্যতম উপায়।
কঠিন কাজ এড়িয়ে না গিয়ে তার সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। সমাধান না হয় প্রয়োজনে শিক্ষক বা বন্ধুদের সাহায্য নেওয়া। পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পেছনে খাবার দারুণ ভূমিকা রাখে। অনেকে ভাবতে পারেন দামি খাবার খেলে যেমন- ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খেলে মনে হয় বেশি মনোযোগ আসে। আসলে ধারণাটি একেবারেই ভুল। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফাস্টফুড জাতীয় খাবার সর্বদাই পরিত্যাগ করা উচিত। মিষ্টি খেলে ব্রেইন বাড়ে। আসলেই, মিষ্টি জাতীয় খাবার ব্রেইনকে সতেজ এবং সুস্থ রাখে তাই মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে পারেন, আর অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি এবং সবুজ শাক-সবজি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাবেন। এতে আপনার শরীর সুস্থ ও মন ভালো থাকবে এবং পড়াশোনায় মন বসবে।
ব্যায়াম বা খেলাধুলা পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে খুব কার্যকর। সারাদিনে একটা সময় অনন্ত ১ ঘণ্টা ব্যায়াম অথবা খেলাধুলা করা এতে মাইন্ড ফ্রেস থাকে এবং পড়াশোনায় অধিক মনোযোগী হওয়া যায়। আর খেলাধুলা অথবা ব্যায়াম এর জন্য আপনি বিকালকে নির্ধারণ করতে পারেন। কারণ, বিকাল বেলা পড়াশোনা না করা উত্তম। পমোডোরো হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে মনোযোগের ব্যাপারে সাহায্য করা হয়।
প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে উনিশ শতকের শুরুতে ফ্রান্সিসকো সিরলো এই পদ্ধতি তৈরি করেন, যেখানে ২৫ মিনিট টানা কাজ করবেন বা পড়বেন, পরের ৫ মিনিট বিরতি নেবেন, এভাবে চারবার ২৫ মিনিট হওয়ার পর ১৫ মিনিট বিরতি নিন। এতে মনোযোগও থাকে, আবার বিরক্তিও আসে না, আবার পড়াটাও বেশ ভালো মনে থাকে। মুঠোফোন, কম্পিউটারে এ ধরনের অনেক অ্যাপ ও সফটওয়্যার পাওয়া যায়।
ব্রেইন ভালো না, পড়া মনে থাকে না- এমন অভিযোগ তো চলে। সত্যি বলতে একবার পড়লেই পড়া মস্তিষ্কে গেঁথে যাবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটা একেবারেই সম্ভব নয়। একই জিনিস বারবার, শব্দ করে পড়তে হবে এবং লিখে লিখে দাগিয়ে পড়তে হবে, পড়ার পাশাপাশি যদি চিত্র থাকে, সেটা আরও ভালো কাজে দেবে, মস্তিষ্কে সেটা বেশি দিন থাকে।
সমৃদ্ধশালী জাতি গড়ে তুলতে হলে বই পাঠের বিকল্প নেই। সুতরাং মনের উৎকর্ষতা লাভের জন্য বই পড়া বাড়াতে হবে। মনের উৎকর্ষতা একজন মানুষ মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন প্রকৃত মানবে পরিণত হতে পারে। মোটকথা, এখনই আমাদের সচেতন হতে হবে। বই পড়া আর পাঠাগার স্থাপনে আগ্রহ বাড়াতে হবে। এবং ছোটদেরও উৎসাহিত করতে হবে বেশি বেশি বই পড়তে।
উম্মে সালমা
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ