প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
এক প্রতিবেদনে দেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা শুধু উদ্বেগজনক নয়, পুরো অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেতও বটে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে ‘আগ্রাসী ব্যাংকিং’ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। মাত্রাতিরিক্ত ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো এখন নিজেরাই অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে পড়েছে। একদিকে বিতরণ করা ঋণ আদায় হচ্ছে না, অন্যদিকে ইমেজ সংকটের কারণে নতুন আমানতও আসছে না। ফলে তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণের এক দুষ্টচক্রে আটকে গেছে এই খাত।
এ প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ ব্যাংকগুলো মোট আমানতের ৮৩ শতাংশ এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো ৯০.৫০ শতাংশ ঋণ বা বিনিয়োগ হিসাবে বিতরণ করতে পারে। অথচ বেসরকারি ব্যাংকগুলো গড়ে ৯৪.১০ শতাংশ এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো তাদের আমানতের ১২১.৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছে।
আমানতের চেয়েও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করার অর্থ হলো-ব্যাংকগুলো বাজার থেকে চড়া সুদে ধার করে বা বন্ড ছেড়ে সেই টাকা ঋণ হিসাবে দিচ্ছে, যা আর্থিক ব্যবস্থাপনার ব্যাকরণ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। আর এই পরিস্থিতির মূলে রয়েছে বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ব্যাংক দখল ও লুটপাটের সংস্কৃতি। বলা বাহুল্য, এই লুটপাটের কারণেই আজ সাধারণ আমানতকারীরা ব্যাংকের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। যেখানে সরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো নিয়মের মধ্যে থেকে ব্যবসা করছে, সেখানে বেসরকারি খাতের এই বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
আমরা মনে করি, এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শুধু কাগুজে প্রতিবেদন তৈরিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। যারা নির্ধারিত সীমার বাইরে ঋণ বিতরণ করেছে এবং আইন ভেঙে বাজার থেকে ধার করে বিনিয়োগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা। বিশেষ করে ব্যাংক দখলের মাধ্যমে যে লুটপাট হয়েছে, তা তদন্তে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা জরুরি। ব্যাংক খাতে সুশাসন ও আমানতকারীদের আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে না পারলে এই তারল্য সংকট ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।