ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন

হাসি ফুটুক সাধারণ মানুষের মুখে

হাসি ফুটুক সাধারণ মানুষের মুখে

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন বনানী টি-অ্যান্ড-টি খেলার মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ১৭টি পরিবারের ১৭ জন নারীপ্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পাইলটিং পর্যায়ে প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উপজেলার ৩৭ হাজার নারী এ ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এসেছেন। সরকার গঠনের ২১ দিনের মাথায় নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের এ ঘটনা একটি বিরল নজির সন্দেহ নেই। আমরা এ কর্মসূচির সাফল্য প্রত্যাশা করছি।

দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে নতুন সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এটি শুধু একটি কার্ড নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য এক ধরনের অর্থনৈতিক সুরক্ষাকবচ। এ কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে এ কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করবে এর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর। অতীতে সামাজিক কর্মসূচি নিয়ে নানারকম অনিয়ম হয়েছে। ফলে প্রকৃত নিম্নবিত্ত ও দরিদ্ররা খুব কমই সেসবের সুফল পেয়েছে। কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী যেন ফ্যামিলি কার্ডের অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা এবং যথাযথ মনিটরিংয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্বচ্ছভাবে ফ্যামিলি কার্ডের নীতিমালা প্রয়োগ করা যায়, তবেই সরকারের এ কার্যক্রম সার্থকতা পাবে এবং দেশের কোটি কোটি নিম্নবিত্ত মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।

উল্লেখ্য, ফ্যামিলি কার্ডের নীতিমালা অনুযায়ী এ কর্মসূচির মূল দর্শন হলো- ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। নীতিমালায় কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাত ব্যক্তি-শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ভূমিহীন ও গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার; অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, যেমন- হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার। দশমিক ৫ একর বা এর কম জমির মালিকও পাবেন এ কার্ড। অন্যদিকে নির্দিষ্ট ছয়টি শ্রেণির মানুষকে এ সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। যেমন, পরিবারের কেউ সরকারের পেনশনভোগী হয়ে থাকলে সেই পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী বা গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিকের পরিবারও পাবে না এ সুবিধা।

এছাড়া পরিবারের কোনো সদস্য সরকারের চাকরিজীবী হলে অথবা কোনো সদস্যের বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা থাকলেও সেসব পরিবার এ কার্ড পাওয়ার অযোগ্য হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত আপাতদৃষ্টিতে কঠোর মনে হলেও প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করতে এটি একটি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ। এ প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো, সম্পদের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা। আমরা অতীতে দেখেছি, রাজনৈতিক প্রভাব বা স্থানীয় দুর্নীতির কারণে অনেক সময় সচ্ছল ব্যক্তিরা কার্ড দখল করে রাখতেন। এতে বঞ্চিত হতেন প্রকৃত দরিদ্ররা। ছয়টি শ্রেণিকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সেই ‘ছিদ্র’ বন্ধ করতে সহায়ক হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে এটি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত