ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

রক্তে কেনা দেশ, দায়িত্বে গড়া ভবিষ্যৎ

সেঁজুতি মুমু
রক্তে কেনা দেশ, দায়িত্বে গড়া ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। অনেক ত্যাগের পর এই দেশ পেয়েছি আমরা। বারবার অপশক্তি এই দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু এদেশের জনতা তা হতে দেয়নি। জীবন দিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করেছে। এ দেশ রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। এজন্য আমাদের দেশের সামাজিক সংকটগুলো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে, এর থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বর্তমানে বাংলাদেশের সব ধরনের সংকটের মধ্যে কিছু বিষয় আলোচনা করা খুবই দরকার।

সড়ক দুর্ঘটনা : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গত কয়েকদিনে যে পরিমাণে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে, তা সত্যি হৃদয়বিদারক। অনেক পরিবারের জন্য ঈদের আনন্দ যাত্রা, বেদনায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়ে। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। প্রথমত, চালকদের অসচেতনতা ও বেপরোয়া গতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। অনেক চালক ট্রাফিক নিয়ম মানেন না এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। দ্বিতীয়ত, অদক্ষ ও প্রশিক্ষণহীন চালকদের সংখ্যা বেশি, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তৃতীয়ত, সড়কের খারাপ অবস্থা- গর্ত, ভাঙা রাস্তা ইত্যাদি দুর্ঘটনা ঘটাতে সহায়তা করে। এছাড়া, যানবাহনের ত্রুটি, যেমন ব্রেক বা লাইটের সমস্যা, দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ। পথচারীদের অসচেতনতা, যেমন হঠাৎ রাস্তা পার হওয়াও দুর্ঘটনা বাড়ায়। সর্বশেষে, ট্রাফিক আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ না হওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

এসব কারণ দূর করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং নিয়ম মেনে চলতে হবে। এই সমস্যাগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে আমাদের এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের সঙ্গে জনগণকেও সমানভাবে সচেতন হতে হবে। তবেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

শিক্ষা সমস্যা : বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দশা বড়ই খারাপ। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যায় আমরা কত পিছিয়ে আছি। বিশেষ করে বর্তমানে বড় সমস্যা আমাদের স্কুলের ভর্তিতে পরীক্ষা নাকি লটারি এই সংক্রান্ত সমস্যা। অনেকেই মনে করে লটারি পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের চাপ হবে না। এটাই ভালো। কিন্তু শিক্ষার মান বাড়াতে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো পরীক্ষা পদ্ধতি। এর আগেও পরীক্ষা না নিয়ে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কিন্তু তার একমাত্র ফলাফল হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ জন্মাতে পরীক্ষার বিকল্প নেই। তাই আগের মতো স্কুলের ভর্তিতে ভর্তি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এতেই পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন সম্ভব হবে। শিক্ষা বিষয়ে সর্বোচ্চ বাজেট দিতে হবে। মনে রাখতে হবে শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। তাই প্রয়োজনে দেশ বিদেশের শিক্ষা গবেষকদের দিয়ে ভালোভাবে পরামর্শ নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষামুখী করতেই হবে। নয়তো জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার!

চিকিৎসা সমস্যা : বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালে গেলে বোঝা যায়, চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটা অবহেলিত। দালালের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই, ফলে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাবে অনেকেই বাধ্য হয় প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে। কিন্তু সেখানে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা করতে গিয়ে অনেক পরিবার সর্বশান্ত হয়ে যায়। অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। চিকিৎসা সমস্যার সমাধান করা এখন সময়ের দাবি। দালালদের যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতালে উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করতে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন : বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে লাখো নারীর ইজ্জত লুন্ঠিত হয়েছে। অতঃপর স্বাধীনতা এসেছে। কিন্তু স্বাধীন দেশেও নারীরা কি নিরাপদ? প্রায় প্রতিদিন শিশু ও নারী নির্যাতনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা বিভিন্ন ধরনের, শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক সব দিক দিয়ে নারীরা আজও নির্যাতিত। অন্যদিকে শিশুরা যেখানে সুস্থ শৈশব কাটাবে। তারও যেন নিরাপত্তা নেই। শিশু নির্যাতনও দিন দিন বাড়ছে।

সেঁজুতি মুমু

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত