ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ক্যাম্পাস রাজনীতি নিষিদ্ধ করছে নেপাল

ক্যাম্পাস রাজনীতি নিষিদ্ধ করছে নেপাল

নেপালে বালেন শাহ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার একটি বিস্তৃত ১০০ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যেখানে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধ করা এবং সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বন্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

নতুন প্রশাসনের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত এই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে এসব পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

সরকার জানিয়েছে, ৯০ দিনের মধ্যে ক্যাম্পাসগুলো থেকে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন বাদ দিয়ে অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা হবে। এর লক্ষ্য শিক্ষা ও ক্যাম্পাস প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব কমানো।

একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন বাতিলের কথাও বলা হয়েছে, যাতে জনসেবা আরও পেশাদার করা যায়।

এই কর্মসূচিতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের ১৯৯১ সাল থেকে সম্পদের তদন্তে একটি ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

সরকার ৩০ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে ১৭-তে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে, যাতে কার্যক্রম সহজ ও ব্যয় কমানো যায়।

এছাড়া অকার্যকর বোর্ড ও কমিটিগুলো বিলুপ্ত বা একীভূত করা হবে এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কর্মসূচিভিত্তিক সূচক চালু করা হবে।

এছাড়া ব্যাংক হিসাব ও শেয়ারসহ আর্থিক সম্পদের একটি ডিজিটাল নিবন্ধন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করবে। পাশাপাশি ‘জাতীয় সততা নীতি’ এবং ‘হুইসেলব্লোয়ার’ সুরক্ষা কাঠামো চালুর কথাও বলা হয়েছে।

সরকার ৩০ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে ১৭-তে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে, যাতে কার্যক্রম সহজ ও ব্যয় কমানো যায়।

এছাড়া অকার্যকর বোর্ড ও কমিটিগুলো বিলুপ্ত বা একীভূত করা হবে এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কর্মসূচিভিত্তিক সূচক চালু করা হবে।

ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর ব্যাপক জোর দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে পরিষেবা গ্রহণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রকে প্রাথমিক পরিচয়পত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং পাসপোর্ট, লাইসেন্স ও নাগরিকত্ব পরিষেবার জন্য ‘ফেসলেস’ বা ‘মুখবিহীন’ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া জাতীয় ডিজিটাল গভর্ন্যান্স প্ল্যাটফর্ম, ই-স্বাক্ষরের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং তাৎক্ষণিক অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও চালুর কথা বলা হয়েছে।

এই সংস্কার প্যাকেজে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা করার পদ্ধতি সহজ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপের রূপরেখা দেয়া হয়েছে, যেমন দুই দিনের মধ্যে স্টার্টআপ নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং বড় প্রকল্পগুলোর জন্য ‘ওয়ান-ডোর’ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ, হাসপাতালগুলোতে ১০ শতাংশ বিনামূল্যে শয্যা নিশ্চিত করা এবং সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এই সংস্কার কর্মসূচিতে জ্বালানি রফতানি, নগর উন্নয়ন, কর স্বয়ংক্রিয়করণ এবং গণপরিবহন নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও সেবা প্রদানের মান উন্নয়নের বৃহত্তর প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত।

সরকার জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিত তদারকি করা হবে।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

আবা/এসআর/২৬

ক্যাম্পাস,রাজনীতি,নেপাল
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত