ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

এসি ও ইন্ডাকশন ব্যবহার

এসি ও ইন্ডাকশন ব্যবহার

তপ্ত গরমে ঘরে ঘরে স্বস্তি দিচ্ছে এসি ও কুলার। অন্যদিকে গ্যাসের সংকটে অনেক গৃহিণীই এখন রান্নার জন্য বেছে নিচ্ছেন ইন্ডাকশন কুকার। কিন্তু মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল দেখে কপালে ভাঁজ পড়ছে অনেকেরই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসি এবং ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম না জানলে শুধু বিল নয়, বাড়তে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। আপনার ঘরের বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বৈদ্যুতিক লোড সামলাতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি-

সাধারণত একটি এসি ১.২ থেকে ১.৫ কিলোওয়াট লোড নেয়। অন্যদিকে একটি স্ট্যান্ডার্ড ইন্ডাকশন কুকার প্রায় ২ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। যখন একই সঙ্গে এসি, ইন্ডাকশন, রেফ্রিজারেটর এবং ওয়াশিং মেশিন চালানো হয়, তখন বাড়ির মোট লোড ৫-৬ কিলোওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। বেশিরভাগ আবাসিক সংযোগে এত বেশি লোড নেওয়ার অনুমতি থাকে না, ফলে মেইন ফিউজ উড়ে যাওয়া বা শর্ট সার্কিটের মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া ইউনিটের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় স্ল্যাব পরিবর্তনের কারণে বিল আসে আকাশচুম্বী।

অনুমোদিত লোডের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে নোটিশ বা জরিমানার সম্মুখীন হতে পারেন গ্রাহক। এই পরিস্থিতি এড়াতে সব ভারী বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম একসঙ্গে না চালানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

যদি সকালে রান্নার সময় ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করেন, তবে সেই সময়টুকু এসি বন্ধ রাখার চেষ্টা করুন। আবার রাতে যখন এসি চলে, তখন ওয়াশিং মেশিন বা ইন্ডাকশন ব্যবহার না করাই ভালো। এসির ফিল্টার পরিষ্কার রাখা এবং ইন্ডাকশনে সঠিক পাত্র ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। যদি আপনার পরিবারে নিয়মিতভাবে এসি, ওয়াশিং মেশিন ও ইন্ডাকশন কুকার একসঙ্গে চালানোর প্রয়োজন হয়, তবে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করে অনুমোদিত লোড বাড়িয়ে নেওয়া উচিত। এতে শর্ট সার্কিট বা পাওয়ার ট্রিপের ঝুঁকি কমবে এবং আইনি জটিলতা থেকেও মুক্ত থাকা যাবে।

মনে রাখবেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় মানেই পরোক্ষভাবে অর্থ সাশ্রয়। প্রতিটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের পরিমিত ও পরিকল্পিত ব্যবহার আপনার মাসিক খরচ অর্ধেক কমিয়ে আনতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত