ঢাকা বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ, প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন

মুহিবুল হাসান রাফি
জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ, প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন

ইরান-ইসরায়েলের যুদ্ধ এখন আর দুই দেশের ধ্বংসলীলায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন সারা বিশ্বের অর্থনীতির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জ্বালানির প্রধান সরবরাহ লাইন হরমুজ প্রণালী জ্বালানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ সংকট পুরো বিশ্বকে পর্যুদস্ত করবে। এ অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তড়িৎগতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে এবং তা কার্যকরও করছেন কঠোরভাবে। দেরিতে হলেও আমাদের সরকার জ্বলানি সাশ্রয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার মধ্যে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ করা, সরকারি-আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস আদালত সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি পরিবর্তন ও অনলাইন ক্লাস নিয়ে ভাবছে সরকার। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অনলাইন ক্লাসের বিপক্ষে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বড় অংশ। যা এরইমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হতে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে সরকার নিশ্চয় দেখেশুনে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সরকার আপাতত জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে তা যথার্থ বলেই প্রতীয়মান হয়। কিন্তু এ সিদ্ধান্তগুলো কতটুকু কার্যকর হচ্ছে তা তদারকি করা জরুরি।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ক্রমেই আমদানিনির্ভর হয়ে ওঠার কারণে একদিকে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে আমদানি ব্যয়। অতিরিক্ত ব্যয় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো জ্বালানি সাশ্রয়ে স্থায়ী নীতি গ্রহণ করে তা সরকারকে কঠোর ও নিয়মিত তদারকি করতে হবে। সাশ্রয় করলে প্রণোদনা, অপচয় করলে শাস্তির ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। শিক্ষা, গণমাধ্যম ও প্রচারমাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়কে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বাড়াতে হবে বিনিয়োগ। দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে থাকে সরকারের টেকসই এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)। কিন্তু কখনোই তা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয় না। জানতে চাইলে স্রেডার চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বছরজুড়ে কর্মশালা, আলোচনা সভাসহ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জ্বালানি ব্যবস্থাপক ও জ্বালানি নিরীক্ষা কর্মকর্তা রাখার কথা বলছি। কিন্তু বড় সমস্যা হলো- এ সংক্রান্ত আইনের সীমাবদ্ধতা। যেখানে সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়। কেউ না মানলে তেমন কিছু করার সুযোগ নেই। প্রায় দেড় দশক আগের পুরোনো আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেটি হলে কাজটা করতে সহজ হবে।’ পাশাপাশি জনবলের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্রেডায় বর্তমানে জনবল রয়েছে মাত্র ৩০ জন। জনবল বৃদ্ধি ও অর্গানোগ্রাম সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেটি হলে দেশজুড়ে কর্মপরিধি আরও বাড়বে।’

বিদ্যুৎ-জ্বালানির অপচয় : গত দুই দশকে দেশে শিল্পোন্নয়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা উল্টো কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে জ্বালানির অপচয় ব্যক্তিপর্যায়েও চলছে অপচয়। গত রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন একজন সচিবের কক্ষে কেউ নেই; কিন্তু তার এসি চলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে সেই এসি বন্ধ করেন। এমন অপচয়ের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আলোর ব্যবহার, অনিয়ন্ত্রিত এসির ব্যবহারসহ নানা উপায়েই বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির প্রয়োজন। ফলে বিদ্যুতের অপচয় মানেই শেষ পর্যন্ত জ্বালানির অপচয়। ব্যক্তিপর্যায়েও চলছে অপচয়। গত রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন একজন সচিবের কক্ষে কেউ নেই; কিন্তু তার এসি চলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে সেই এসি বন্ধ করেন।

এমন অপচয়ের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আলোর ব্যবহার, অনিয়ন্ত্রিত এসির ব্যবহারসহ নানা উপায়েই বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির প্রয়োজন। ফলে বিদ্যুতের অপচয় মানেই শেষ পর্যন্ত জ্বালানির অপচয়। পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে পুরোনো মোটর এবং যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুতের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে ইস্পাত ও সিমেন্টশিল্পে তাপ পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তির অভাবে জ্বালানির অপচয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বিদ্যুৎ খাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশে অনেক পুরোনো গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানির দক্ষতা মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ, ফলে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ জ্বালানি অপচয় হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এই দক্ষতা ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। উৎপাদনের পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ পর্যায়েও বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিসিসের (আইইইএফএ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বছরে ১২০ কোটি ডলার বা ১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির বোঝা শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনাও সম্ভব।

একইসঙ্গে অন্যান্য খাতেও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। জানতে চাইলে আইইইএফএর বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, করোনা মহামারির সময় দেশে ২০-২৫ শতাংশ প্রাথমিক জ্বালানির ব্যবহার কমে গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও ‘ওয়ার্ক ফরম হোম’ (বাসা থেকে অফিসের কাজ করা) পদ্ধতির মাধ্যমে অন্তত ৪ থেকে ৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। এমন কিছু অফিস আছে, যাদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন নেই বা সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, সেই অফিসগুলোতেই এই নিয়ম চালু করা দরকার। অন্যান্য অফিসেও বিকল্প দিন হিসাব করে কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে।

ভারতের এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এসির তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে না রেখে মাত্র এক ডিগ্রি বাড়িয়ে ২৫ ডিগ্রিতে রাখা হলে ৬ শতাংশ সাশ্রয় করা সম্ভব। একইভাবে শিল্পে ক্যাপটিভনির্ভরতা কমিয়ে গ্রিড বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি, গ্যাসচালিত বয়লার থেকে বিদ্যুৎচালিত বয়লারে রূপান্তর, দক্ষ যন্ত্রপাতির ব্যবহারসহ নানা উপায়ে জ্বালানি সাশ্রয় করার সুযোগ রয়েছে। ব্যক্তিগত পর্যায়েও একটু হিসাব করলেই বিদ্যুৎ-জ্বালানির ব্যবহার কমানোর সুযোগ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু জ্বালানি তেল আমদানিতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানান, এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ খাত ফার্নেস অয়েলের মতো ব্যয়বহুল বিকল্পের ওপর নির্ভর করছে। পাশাপাশি দেশের সীমিত শোধন ক্ষমতার কারণে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পেট্রোবাংলা সতর্ক করেছে যে আগামী মাসগুলোয় গ্যাস সরবরাহ কমতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সাশ্র সাশ্রয় মানে শুধু খরচ কমানো নয়, এটি বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়, পরিবেশ পরিবেশ সুরক্ষা সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। জ্বালানি অপচয়ের পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে সচেতনতার অভাব, সংকটকালীন নির্দেশনাগুলো দীর্ঘমেয়াদি নীতিতে রূপ না নেওয়া, শিল্প ও প্রতিষ্ঠানে পুরোনো এবং অদক্ষ যন্ত্রপাতির ব্যবহার, সরকারি নজরদারির দুর্বলতা উল্লেখযোগ্য।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ক্রমেই আমদানিনির্ভর হয়ে ওঠার কারণে একদিকে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে আমদানি ব্যয়। অতিরিক্ত ব্যয় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো জ্বালানি সাশ্রয়ে স্থায়ী নীতি গ্রহণ করে তা সরকারকে কঠোর ও নিয়মিত তদারকি করতে হবে। সাশ্রয় করলে প্রণোদনা, অপচয় করলে শাস্তির ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। শিক্ষা, গণমাধ্যম ও প্রচারমাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়কে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বাড়াতে হবে বিনিয়োগ। জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের সুখকর নয়। দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে থাকে সরকারের টেকসই এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (গ্রেডা)। কিন্তু কখনোই তা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয় না।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন একজন সচিবের কক্ষে কেউ নেই; কিন্তু তার এসি চলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে সেই এসি বন্ধ করেন। এমন অপচয়ের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আলোর ব্যবহার, অনিয়ন্ত্রিত এসির ব্যবহারসহ নানা উপায়েই বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির প্রয়োজন। ফলে বিদ্যুতের অপচয় মানেই শেষ পর্যন্ত জ্বালানির অপচয়। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্পে পুরোনো যন্ত্রপাতি, অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবে একটি সাধারণ শিল্প-কারখানায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে, তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ইস্পাত ও সিমেন্ট খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অভাবে বড় ধরনের অপচয় দেখা যায়। এসব খাতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে বছরে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব, যা দেশের মোট তরলীকৃত গ্যাস আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশের সমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে পুরোনো মোটর এবং যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুতের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে ইস্পাত ও সিমেন্টশিল্পে তাপ পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তির অভাবে জ্বালানির অপচয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ খাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশে অনেক পুরোনো গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানির দক্ষতা মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ, ফলে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ জ্বালানি অপচয় হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এই দক্ষতা ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। উৎপাদনের পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ পর্যায়েও বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিসিসের (আইইইএফএ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বছরে ১২০ কোটি ডলার বা ১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির বোঝা শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনাও সম্ভব।

একইসঙ্গে অন্যান্য খাতেও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। জানতে চাইলে আইইইএফএর বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম একটি জাতীয় দৈনিককে বলেছেন, করোনা মহামারির সময় দেশে ২০-২৫ শতাংশ প্রাথমিক জ্বালানির ব্যবহার কমে গিয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতেও ‘ওয়ার্ক ফরম হোম’ (বাসা থেকে অফিসের কাজ করা) পদ্ধতির মাধ্যমে অন্তত ৪ থেকে ৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। এমন কিছু অফিস আছে, যাদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন নেই বা সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, সেই অফিসগুলোতেই এই নিয়ম চালু করা দরকার। অন্যান্য অফিসেও বিকল্প দিন হিসাব করে কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু জ্বালানি তেল আমদানিতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। এতো বড় বাড়তি ব্যয় এ মুহূর্তে দেশের অর্থনীতিকে বড় চাপে ফেলবে। আমাদের উচিত এ অবস্থায় সরকারের নির্দেশনাগুলোকে বাস্তবায়নে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা। সরকারকেও এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতাও তৈরি করতে হবে।

মুহিবুল হাসান রাফি

সাংবাদিক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত