ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গ্রামে জ্বালানি ঘাটতির কারণে শহরমুখী প্রবণতা বাড়ছে

গ্রামে জ্বালানি ঘাটতির কারণে শহরমুখী প্রবণতা বাড়ছে

বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্রাম-শহরের বিদ্যুৎ প্রাপ্তির যেমন বৈষম্য দেখা যাচ্ছে, তেমনি শহরের মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বৈষম্য আছে। শহরের প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের লোকেরা দুর্ভোগে পড়ছেন বেশি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এনার্জি ডিমান্ড ম্যাপিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকায় জ্বালানির চাহিদা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি, যা একটি বৈষম্য তৈরি করছে। এই বৈষম্য কমাতে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

উন্নয়ন বাজেটের মতো বিদ্যুৎ বরাদ্দেও বৈষম্য রয়েছে, যা দেশের উন্নয়নকে এককেন্দ্রিক করে তুলছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে তথ্যনির্ভর পরিকল্পনা ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। গণপরিবহনে গুরুত্ব দিতে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে বাস সার্ভিসে গুরুত্ব দেওয়া, সাইকেল ও পদচারীবান্ধব সড়ক তৈরি করলে জ্বালানির চাপ কমবে। পণ্য পরিবহনে রেলপথ ও নৌপথে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকাভিত্তিক এককেন্দ্রিক নগরায়ণ থেকে বের হয়ে বহুকেন্দ্রিক নগরায়নে জোর দেওয়া উচিত।

গ্রামে জ্বালানি ঘাটতির কারণে শহরমুখী প্রবণতা বাড়ছে, যা বিকেন্দ্রীকরণ ও টেকসই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। গণপরিবহনভিত্তিক যাতায়াত ব্যবস্থা, সমন্বিত বাস রুট পরিচালনা, ছায়াযুক্ত ফুটপাত ও পৃথক সাইকেল লেইন নির্মাণের ওপর জোর দেন। বিশ্বব্যাপী ভবনের টেকসই ডিজাইনের মাধ্যমেই জ্বালানির ৪০-৫০ শতাংশ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়, তাই গ্রিন বিল্ডিং ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি জরুরি। তার মতে, ঢাকায় আরও উঁচু ভবন নির্মাণের কারণে জ্বালানির চাহিদা আরও বেড়ে যাবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে নগরের অনেক এলাকায় বহুতল ভবনের বদলে মাঝারি উচ্চতার ভবন নির্মাণ কৌশলের দিকে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত