প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার যে উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা এখনই তৎপর হয়ে উঠেছে। নানা কৌশল ও কারসাজির আশ্রয় নিয়ে তারা পণ্যমূল্য বাড়ানোর অপচেষ্টা করছে। এরইমধ্যে সব ধরনের সবজির দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে কেজিপ্রতি ৫-৬ টাকা। আদা, রসুন, দারুচিনি, লবঙ্গ ও এলাচের দাম কেজিপ্রতি ২০-৪০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে পাঁচটি উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা যায়। এগুলো হলো- বাজার তদারকিতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, সরবরাহ চেইন সচল রাখা ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকিযুক্ত বিক্রি, বিশেষ করে টিসিবি, ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সম্প্রসারণ, আমদানি সহজ করা, ডলার সংকট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সব ধরনের উৎপাদন খরচ কমাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বলার অপেক্ষা রাখে না, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ে উৎপাদন ও পরিবহন খাতে। এতে পণ্যমূল্য বেড়ে গেলে এর চাপ পড়ে ভোক্তার ওপর। তার ওপর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যমূল্য অতিরিক্ত বাড়িয়ে দিয়ে মুনাফা লুটে। তাই বাজার মনিটরিং, পরিবহন ভাড়া মনিটরিং, পণ্য পরিবহনে বিশেষ সুবিধা প্রদান ইত্যাদি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। অতীতে বাজার মনিটরিংয়ের নানা পদক্ষেপের কথা শোনা গেছে। কিন্তু এর কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। বাজার সিন্ডিকেটগুলো তৎপরতা বন্ধ হয়নি। এবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পদক্ষেপ নেবে, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন দেখতে চাই আমরা। মোট কথা, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রেও জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার।