ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে পুলিশের অবস্থান

নজরদারিতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে পুলিশের অবস্থান

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। সিটি কলেজে গতকাল বুধবার ক্লাস না হলেও ক্যাম্পাসে পুলিশের অবস্থান দেখা গেছে। দুপুরে সিটি কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে করণীয় নির্ধারণে বৈঠকও করেছেন।

এদিকে ডাকসু ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম দুপুরে লালদীঘির পাড়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে গত মঙ্গলবারের হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পরে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সাংবাদিকদের বলেন, হামলার ঘটনায জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। ‘যারাই জড়িত থাকুক আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব। এই পর্যন্ত আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ বা কারও পক্ষ থেকে কোনো মামলা এ ধরনের কিছু পাইনি। ‘যেটি বলেছেন যে পুলিশের গাফিলতি, যদি কোনো কিছু থেকে থাকে আমরা তদন্ত করে দেখব। থাকলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।’ মঙ্গলবারের সংঘর্ষে পুলিশের সামনেই দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার’ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমাদের অভিযান চলছে। অবশ্যই ফুটেজ দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব। আমাদের অভিযান চলছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

সিটি কলেজের আগের দিনের ঘটনার পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন হয়েছে এবং এদিনও কর্মসূচি আছে। এ বিষয়ে কোনো ‘ঝুঁকি’ আছে কী না এই প্রশ্নে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছি যাতে এ ধরনের ঘটনা না বাড়ে। এবং এই ধরনের সমস্যা যাতে না বাড়ে। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের নজরদারি আছে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ফোর্স মোতায়েন আছে।’

বেলা আড়াইটায় কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে সভা শেষে সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মিটিং করেছি শিক্ষকদের নিয়ে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা যাতে প্রবেশ করতে না পারে।’ ‘আমরা এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি। উনার বলেছেন, যতদিন প্রয়োজন হয় তারা আমাদের সহায়তা দিবে।’ গত মঙ্গলবারের ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, ‘তাদের সাতদিন সময় দিয়েছি। তারা তদন্ত করে জানাবে কেন কী হয়েছে।’ বুধবার কলেজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি, তবে এদিন কলেজে কোনো ক্লাস হয়নি। মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম শহরে সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র শিবির গ্রাফিতি এঁকেছিল। তার নিচে লেখা ছিল, ‘ছাত্র-রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’।

তবে কে বা কারা ‘ছাত্র-রাজনীতি’ থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি কালো কালি দিয়ে মুছে ওপরে ‘গুপ্ত’ লিখে তীর চিহ্ন এঁকে দেয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা লেখালেখি করেন, যার জেরে সকালে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও হাতাহাতি হয়। এর প্রতিবাদে বিকালে নিউমার্কেট মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় ছাত্র শিবির। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা কলেজের দিকে এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সে সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত