প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৫ মে, ২০২৬
দেশের একমাত্র কঠিন শিলা বা পাথরের খনি মধ্যপাড়া আজ এক অস্তিত্ব সংকটের মুখে। খনিটিতে পাথর মজুত রাখার ধারণক্ষমতা যেখানে ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টন, সেখানে বর্তমানে অবিক্রিত পাথরের স্তূপ জমেছে প্রায় ১৪ লাখ ৭০ হাজার টন। বিপুল পরিমাণ এই পাথরের আনুমানিক মূল্য ৪৫০ কোটি টাকা। মজুত রাখার জায়গা না থাকায় খনিটির উৎপাদন যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একটি জাতীয় সম্পদ যখন নীতিনির্ধারণী দুর্বলতা ও অবহেলার কারণে মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন তা শুধু একটি কোম্পানির লোকসান নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত।
মধ্যপাড়া খনি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান : বিদেশি পাথরের অসম প্রতিযোগিতা, সরকারি প্রকল্পগুলোর অনীহা এবং আধুনিক ক্রাশার মেশিনের অভাব। ভুটান ও ভারত থেকে আসা পাথরের তুলনায় মধ্যপাড়ার পাথরের দাম অনেক বেশি। ২০১৫ সাল থেকে ভুটান থেকে বিনা শুল্কে পাথর আমদানির সুযোগ থাকায় দেশীয় পাথর প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। একদিকে দেশীয় খনি থেকে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বিস্ফোরকের দাম ও আমদানি শুল্ক আকাশচুম্বী, অন্যদিকে বিদেশি পাথরের বাজার উন্মুক্ত- এমন বৈষম্যমূলক নীতি কেন বজায় রাখা হয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সরকারিভাবে রেলওয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে মধ্যপাড়ার পাথর কেনার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তারা এই পাথর নিচ্ছে না। আরও একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হলো অবকাঠামো ও পরিবহন। মধ্যপাড়া থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রেললাইনের সংস্কার না হওয়ায় ট্রাকে করে পাথর পরিবহন করতে গিয়ে ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ গত অর্থবছরে লোকসান দিলেও রাজস্ব হিসাবে সরকারকে ৯০ কোটি টাকা প্রদান করেছে। সুতরাং, এই খনিটি কোনোভাবেই অবহেলার পাত্র হতে পারে না। আমরা মনে করি, সরকারি প্রকল্পগুলোতে দেশীয় পাথর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে আধুনিক ক্রাশার মেশিন বসানো এবং রেলপথে পরিবহন ব্যবস্থার দ্রুত সমাধান করতে হবে। একটি জাতীয় খনি ধ্বংস হওয়ার অর্থ হলো হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতির স্থবিরতা। এই আত্মঘাতী পরিস্থিতি থেকে মধ্যপাড়া খনিকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।