প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৫ জুন, ২০২৬
অব্যবস্থাপনার আরেক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল ঘিরে। এ টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। কিন্তু টার্মিনাল থেকে কোনো আয় হওয়ার আগেই এ প্রকল্পে জাপান থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় এসে গেছে। চলতি বছরেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দুই কিস্তিতে ২২০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে, যা সংস্থাটির ১ বছরের উদ্বৃত্ত আয়ের প্রায় সমান। বড় সমস্যা হলো, টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এখনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি, ফলে এটি ঠিক কবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, তা এক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে আয় নিশ্চিত করতে না পারলে ২২ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত শ্বেতহস্তীতে রূপান্তরিত হবে। বলা প্রয়োজন, ২২ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে জাপানের ঋণ সহায়তার পরিমাণ ১৬ হাজার কোটি টাকা।
অব্যবস্থাপনার কথা বলতে গিয়ে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেছেন, বিলম্বের কারণে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। টার্মিনাল নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অপারেটর নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা চুক্তি সম্পাদন করা উচিত ছিল। তাহলে এখন থেকেই টার্মিনালের নিজস্ব আয়েই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা যেত। তিনি দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন।
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম কেন এখনও শুরু করা গেল না, এ প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মফিদুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্পটিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও দৃঢ়তা দেখানো হয়নি।
আমাদের কথা হলো, প্রকল্পটিতে যেহেতু বিপুল পরিমাণ ঋণের টাকা রয়েছে, এ ঋণ পরিশোধের তাগিদ থেকেই থার্ড টার্মিনালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে হবে দ্রুত। বেবিচকের চেয়ারম্যান বলেছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ থাকলে ১৬ ডিসেম্বরেই থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন করা সম্ভব। আমরা আশা করব, বিজয় দিবসেই থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে।