প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২২ জুলাই, ২০২৬
প্রতিদিন সকাল হলেই দেশের সর্বত্র একটি পরিচিত দৃশ্য চোখে পড়ে। ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পিঠে বিশাল ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলের দিকে ছুটছে। কেউ ব্যাগের ভারে নুয়ে পড়েছে, কেউ হাঁটতে গিয়ে বারবার থেমে বিশ্রাম নিচ্ছে। বিষয়টি শুধু অস্বস্তির নয়; এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে যেতে হয় অসংখ্য বই, খাতা ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ। প্রতিটি বিষয়ের আলাদা বই ও খাতা থাকে। এর সঙ্গে যোগ হয় সহায়ক বই, হোমওয়ার্ক খাতা, আঁকার সামগ্রী, পানির বোতল, টিফিন বক্স প্রভৃতি। পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুরা শারীরিকভাবে পুরোপুরি শক্তিশালী হয়ে ওঠে না। তাদের হাড় ও মেরুদণ্ড তখনও গঠনের পর্যায়ে থাকে। এমন অবস্থায় প্রতিদিন অতিরিক্ত ওজন বহন করলে শরীরে স্থায়ী সমস্যা তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, একটি শিশুর ব্যাগের ওজন তার শরীরের মোট ওজনের ১০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক শিশুই নিজের শরীরের তুলনায় অনেক বেশি ভার বহন করছে। অল্প বয়সেই অনেক শিক্ষার্থী পিঠব্যথার অভিযোগ করছে, যা আগে বড়দের মধ্যে বেশি দেখা যেত। শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়, ভারী ব্যাগ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন এত বই গুছিয়ে নেওয়া, কোনো বই নিতে ভুলে গেলে শিক্ষকের বকুনি পাওয়ার ভয়- এসব কারণে শিশুরা মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। ছোটবেলার শিক্ষাজীবন হওয়া উচিত আনন্দময়, সৃজনশীল ও মুক্ত।
বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারও এ সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক দেশে এখন ডিজিটাল বই ও স্মার্ট ক্লাসরুম চালু হয়েছে। ট্যাব বা অনলাইন নোট ব্যবহারের মাধ্যমে বইয়ের সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে স্কুলগুলোর জন্য নির্দেশিকা তৈরি করা যেতে পারে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ এটি শুধু একটি ছোট সমস্যা নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিশু প্রতিদিন ভারী ব্যাগ বহন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে তার শৈশবের আনন্দ নষ্ট হয়ে যায়। অথচ শৈশব হওয়া উচিত মুক্ত, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি।
শিক্ষা কখনই শিশুর জন্য বোঝা হতে পারে না। তাই স্কুলব্যাগ হোক প্রয়োজনীয় জ্ঞানের বাহক, কষ্টের প্রতীক নয়।
শিক্ষার্থী, ওরাইনা খাঁন চৌধুরী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়