ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হাতির প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম সম্ভাবনা ও নিরাপত্তার দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ

হাতির প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম সম্ভাবনা ও নিরাপত্তার দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ

শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতি উপজেলার প্রায় ৪২ কিলোমিটার বিস্তৃত গারো পাহাড় এলাকায় বিলুপ্তপ্রায় এশিয়ান প্রজাতির হাতির একটি প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম গড়ে ওঠার বিষয়টি একদিকে যেমন আশাব্যঞ্জক, অন্যদিকে তা কিছুটা চ্যালেঞ্জেরও জন্ম দেয়।

জানা যায়, হাতির পালের অবাধ বিচরণ দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পর্যটক সেখানে ভিড় করছেন। স্থানীয়ভাবে একে অনেকেই প্রাকৃতিক সাফারি পার্কের সঙ্গে তুলনা করছেন, যা ওই অঞ্চলের পরিবেশগত গুরুত্ব এবং পর্যটন সম্ভাবনার দিকটি উন্মোচন করে। তবে পাশাপাশি এক্ষেত্রে যে ঝুঁকি রয়ে গেছে, তা এড়ানোর সুযোগ নেই। গারো পাহাড় অঞ্চলে হাতি ও মানুষের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব কোনো নতুন বিষয় নয়। খাদ্যের সন্ধানে হাতির লোকালয়ে হানা দেওয়া, ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি ধ্বংস করা এবং এর জেরে হাতি ও মানুষ উভয়েরই প্রাণহানির ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বন বিভাগের পক্ষ থেকে হাতির খাদ্যোপযোগী গাছ রোপণের উদ্যোগের ফলে এ সংঘাত কিছুটা কমেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর বন সংরক্ষণ ও হাতির আবাসস্থল রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষ বন্যপ্রাণী সুরক্ষার গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেছে।

তবে মূল সমস্যাটি রয়ে গেছে অপরিকল্পিত পর্যটন এবং সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাবে। একটি সাফারি পার্কে বন্যপ্রাণী দেখার যে সুরক্ষিত ব্যবস্থা থাকে, গারো পাহাড়ে তেমন কোনো পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। ফলে পর্যটকদের অবাধ যাতায়াত যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সামান্য উসকানিতে বা আত্মরক্ষার তাগিদে বন্যহাতি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এতে পর্যটকদের জীবন যেমন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তেমনই মানুষের অতিরিক্ত উপস্থিতিতে হাতির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও প্রজনন ব্যাহত হতে পারে।

বস্তুত একটি সফল অভয়াশ্রম নির্ভর করে বন্যপ্রাণী ও মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সুনিশ্চিত নিরাপত্তার ওপর। তাই সরকারের উচিত এ প্রাকৃতিক অভয়াশ্রমকে কেন্দ্র করে দ্রুত একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা। প্রথমত, পর্যটকদের চলাচলের ওপর কিছু বিধিনিষেধ ও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে হাতির প্রাকৃতিক পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়। দ্বিতীয়ত, হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বের স্থায়ী সমাধানে লোকালয় ও বনাঞ্চলের সীমানায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে; যেমন-বায়ো-ফেন্সিং বা ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং পর্যটনশিল্পের বিকাশ-উভয় দিক সামলে গারো পাহাড়কে একটি নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসাবে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত