প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নানা ধরনের অপরাধপ্রবণতা ক্রমে বাড়ছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই মানুষের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি উদ্বেগের জায়গায়ই রয়ে গেছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সারাদেশের থানা-ফাঁড়ি থেকে লুটের অস্ত্র এখনও পুরোপুরি উদ্ধার করতে না পারার বিষয়টি। কেননা এরইমধ্যে এসব অস্ত্র সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করছে বলে একাধিকবার প্রমাণ মিলেছে।
৫ আগস্ট সরকারের পতনের দিনে দেশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে ৫ হাজার ৭৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাড়ে ৬ লক্ষাধিক গোলাবারুদ লুণ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৪৫৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে এখনও ১ হাজার ৩১০টি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং আড়াই লক্ষাধিক গোলাবারুদ সন্ত্রাসীদের কবজায় রয়েছে। বিশেষ করে ৯ মিমি পিস্তল, চায়না রাইফেল, এসএমজি এবং শটগানের মতো মারণাস্ত্রগুলো এখনও বেহাত থাকা চরম শঙ্কার বিষয়। সাধারণ মানুষ আবেগ কিংবা ক্ষোভের বশে নেওয়া অস্ত্র হয়তো জমা কিংবা ফেলে দিয়েছে, কিন্তু তালিকাভুক্ত ও ছদ্মবেশী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এসব অস্ত্র তাদের হাতে রেখে দিয়েছে।
আমরা জানি, চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনাকাঙ্ক্ষিত অবনতি প্রত্যক্ষ করা যায়। অন্তরর্বতী সরকার প্রায় দুই বছর দেশ পরিচালনা করে। সে সরকারের পুরো সময় লক্ষণীয় মাত্রায় বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পায়। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালনকারী পুলিশ বাহিনী দীর্ঘ সময় প্রায় অকার্যকর থাকে। এরপর চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশের শাসনভার পায় নির্বাচিত সরকার। বর্তমান সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার। এ জন্য তারা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের কথা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় পরিবর্তন ঘটেনি। প্রতিদিন ছিনতাই, খুন ও রাহাজানির মতো অপরাধ ঘটেই চলেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের হাতে পুলিশের লুণ্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্র থাকার খবর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে রেখেছে হুমকির মধ্যে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলাকারী আলোচিত এক সন্ত্রাসীর হাতে কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া পিস্তলটি উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে, লুণ্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্র শুধু বেহাতই হয়নি, তা এখন খোদ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই নিশানা করা হচ্ছে।
একথা অনস্বীকার্য যে, কোনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো অপরাধীদের অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা শূন্যে নামিয়ে আনা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ বিভাগ এরইমধ্যে অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা ও বিশেষ গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদারের পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে পরিস্থিতির বিবেচনায় তা যথেষ্ট নয়।
আমরা মনে করি, শুধু আর্থিক পুরস্কার বা সাধারণ নোটিশ জারি করে এ সংকটের মূলোৎপাটন সম্ভব নয়। উদ্ধার অভিযানে আরও বেশি কঠোরতা, নিরবচ্ছিন্ন চিরুনি অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিগত ১৫ বছরে প্রদত্ত লাইসেন্সকৃত অবৈধ ঘোষিত অস্ত্রগুলোও দ্রুত জব্দের আওতায় আনতে হবে। লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন অসম্ভব। আমাদের প্রত্যাশা, অনতিবিলম্বে সব বেহাত অস্ত্র উদ্ধারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এতেই জনমনে মিলবে স্বস্তি।