ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অভিযানের নামে অপমান নয়

অভিযানের নামে অপমান নয়

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অপরাধ দমনের একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই অভিযানের নামে আটক ব্যক্তিকে অপমান, হেনস্তা কিংবা জনসমক্ষে লাঞ্ছিত করার কোনো সুযোগ নেই। রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানের সময় আটক নারীদের মুখ জোর করে দেখানোর যে ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, তা এ কারণেই গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন নারী নিজেদের মুখ ঢেকে রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের মধ্যে একজন কাঁদছিলেন। তারপরও নারী পুলিশ সদস্যদের মুখ দেখানোর জন্য চাপ দিতে এবং 'মুখ ঢাকবি না, মাইর হবে' ধরনের কথা বলতে শোনা যায়। একজন আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী তার পরিচয় যাচাই, জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচার হবে। কিন্তু বিচার হওয়ার আগেই তাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আরও উদ্বেগের বিষয়, অভিযান পরিচালনার সময় ইউটিউবার ও কিছু সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি এবং পরে এসব ভিডিওর প্রচার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কোনো বিনোদনমূলক কনটেন্ট নয়। মানুষের দুর্দশা, আতঙ্ক বা অপমানকে 'ভিউ' ও আয়ের উপকরণে পরিণত করা সাংবাদিকতার নৈতিকতারও পরিপন্থী। পুলিশ যদি সত্যিই কোনো অভিযান সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানাতে চায়, তাহলে অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলন বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তথ্য দিতে পারে।

বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিককে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও লাঞ্ছনাকর আচরণ থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তিকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির না করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। ফলে অপরাধের অভিযোগে আটক হলেই একজন ব্যক্তি তার মৌলিক অধিকার হারান— এমন ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারও মধ্যে থাকা উচিত নয়।

অভিযানে ভুল হতে পারে— এমন যুক্তিও এখানে যথেষ্ট নয়। কারণ এটি নিছক একটি প্রশাসনিক ভুলের বিষয় নয়; একজন মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার প্রশ্ন। পুলিশের দায়িত্ব অপরাধী শনাক্ত করা ও আইনের আওতায় আনা, কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা নয়।

একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যম ও কনটেন্ট নির্মাতাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। 'ভিউ' অর্জনের প্রতিযোগিতায় আটক মানুষের মুখ, কান্না কিংবা অসহায়ত্ব প্রচার করা সাংবাদিকতার গৌরব নয়।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান হতে হবে দৃঢ়, কিন্তু মানবিক; কঠোর, কিন্তু আইনের সীমার মধ্যে। অপরাধ দমন করতে গিয়ে যেন রাষ্ট্রই নাগরিকের মর্যাদা হরণ না করে— এটাই নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত