ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-সম্প্রীতি ও অগ্রগতিতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

এম মহাসিন মিয়া
পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-সম্প্রীতি ও অগ্রগতিতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা, জাতিগত সংবেদনশীলতা এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নিরসন করে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনগুলো পাহাড়ের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আস্থার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পাহাড়, নদী ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এ জনপদে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষা করা এতদিন যে প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে ছিল, নতুন এ কাঠামোগত উদ্যোগ তা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

গণমানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেওয়া এই সমন্বিত প্রয়াসকে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পুরো দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী কাঠামোর একদম শীর্ষ পর্যায় থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকট সমাধানের দৃঢ় মানসিকতার বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে গঠিত প্রথম কমিটি অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটির মাধ্যমে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীদের সদস্য করে গঠিত ১০ সদস্যের এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিটি পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গতি সঞ্চার করবে। সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে এই কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যকারিতার সুনিশ্চিত সমন্বয় ঘটায়। এ কমিটির মূল কার্যপরিধি হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় সুনির্দিষ্ট করা, আন্তঃসংস্থা কাজের স্বচ্ছ তদারকি নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন জাতীয় কৌশল প্রণয়ন করা। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত দ্রুত গৃহীত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের যেকোনো সংকট দ্রুত নিরসন করা সহজ হবে।

জাতীয় কমিটির গৃহীত পরিকল্পনা ও নির্দেশনাবলী মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কাঠামোর সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞ সচিবকে সভাপতি এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালককে প্রধান সমন্বয়ক করে গঠিত এই নির্বাহী কমিটিতে আইন, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবগণের পাশাপাশি আইজিপি, বিজিবি ও এনএসআই প্রধানদের যুক্ত করা হয়েছে। পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্র, বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বপরি অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রচলিত আইন ও চুক্তির শর্তাবলি পর্যালোচনার মতো স্পর্শকাতর দায়িত্বগুলো এই কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি যুগোপযোগী ও টেকসই জাতীয় কর্মকৌশলের খসড়া তৈরি করে জাতীয় কমিটির নিকট পেশ করা এ কমিটির প্রাথমিক দায়িত্ব। প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের এমন সরাসরি অংশগ্রহণ পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি রক্ষায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

যেকোনো রাষ্ট্রীয় নীতি কেবল কেন্দ্রীয় দূরদর্শিতা দিয়ে সফল হতে পারে না, যদি না তাতে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও অংশীদারদের কণ্ঠস্বর সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। এ বাস্তবতাকে ধারণ করেই গঠন করা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন, শরণার্থী পুনর্বাসন টাস্কফোর্স, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, প্রথাগত পাহাড়ি নেতৃত্বের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সমগ্র পার্বত্য এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে নির্বাহী কমিটির নিকট সুনির্দিষ্ট বাস্তবমুখী প্রস্তাবনা জমা দেওয়াই হলো এর প্রধান কাজ। স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কারণে এই কমিটি স্থানীয় চাহিদাকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে নিখুঁতভাবে রূপ দান করতে পারবে। রাষ্ট্র ও স্থানীয় মানুষের মধ্যবর্তী যোগাযোগের অভাব দূর করে বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে এ কমিটির গুরুত্ব অপরিসীম।

নবগঠিত এই তিন স্তরের প্রশাসনিক ও সমন্বিত কাঠামোর আত্মপ্রকাশ পাহাড়ে যুগ যুগ ধরে বসবাসরত পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মনে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও নিরাপত্তার নতুন আলো জ্বালিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণ কোনো রূপ রাজনৈতিক দ্বিধা বা বৈষম্য ছাড়াই জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে এই গেজেটকে সাদরে গ্রহণ করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বক্ষেত্রে স্বাগত জানাচ্ছে। বহু বছর ধরে সহিংসতা, অপহরণ ও চাঁদাবাজির আতঙ্কে থাকা নিরীহ মানুষের কাছে এই উচ্চপর্যায়ের সমন্বিত রূপরেখাটি একটি সুদৃঢ় আশ্বাসের নাম। পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতের যে বিরাট সম্ভাবনা ছিল, শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্ফুটিত হওয়ার সুযোগ পাবে। সাধারণ মানুষের এ নিঃশ্বাসের স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রমাণ করে যে, তারা সশস্ত্র সংঘাত ছেড়ে স্থায়ী শান্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ধারায় নিজেদের শামিল করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তবে পাহাড়ে যখনই শান্তির বাতাস বইতে শুরু করে, তখনই সবসময় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও তাদের দোসর আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলো অস্থিতিশীলতা তৈরির চক্রান্তে লিপ্ত হয়। যেসকল বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী পাহাড়কে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ অস্ত্র, চাঁদা আদায়, অপহরণ এবং আধিপত্য বিস্তারের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে, তারা স্বভাবতই রাষ্ট্রের এই কঠোর ও সুশৃঙ্খল শান্তি উদ্যোগকে নিজেদের কায়েমি স্বার্থের হুমকি বলে মনে করবে। ফলে, ইউপিডিএফ, জেএসএস, কেএনএফ বা তাদের সহায়ক চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে সরকারের এ জনকল্যাণমুখী কমিটিগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাতে পারে। অসত্য তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করা এবং আন্তঃজাতিগত দাঙ্গা বা অবিশ্বাস উস্কে দেওয়া তাদের মূল কৌশল হতে পারে। এদের আসল লক্ষ্য পাহাড়কে উন্নত হতে না দেওয়া, কারণ পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক হলে এদের চাঁদাবাজির ব্যবসা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

এ প্রেক্ষাপটে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল নাগরিকের সর্বপ্রধান দায়িত্ব হলো সন্ত্রাসী ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলোর কোনো প্রকার গুজব, বিভ্রান্তিকর প্রপাগান্ডা বা মনগড়া উস্কানিতে কান না দেওয়া। পাহাড়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও সহিংসতা জিইয়ে রেখে যারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে পাহাড়ি-বাঙালি সকল নাগরিককে সম্মিলিতভাবে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসী দল যেন পাহাড়ের সাধারণ নিরীহ মানুষকে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে না পারে, সে ব্যাপারে স্থানীয় শিক্ষিত ও সচেতন সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যে কোনো অপপ্রচারের সত্যতা যাচাই করে সঠিক তথ্য তুলে ধরা এবং রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিরপেক্ষ কার্যক্রমের প্রতি আস্থাশীল থাকা এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় নাগরিক কর্তব্য। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল গুজবের মাধ্যমে যেন পাহাড়ে সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্ভাবনাকে শতভাগ কাজে লাগাতে হলে স্থায়ী নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিন জেলা কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার আধার নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষি, হর্টিকালচার, হস্তশিল্প এবং আন্তর্জাতিক পর্যটনের দিক থেকে বিশাল অবদান রাখার ক্ষমতা রাখে। বর্তমান সরকারের গঠিত এ তিন কমিটির কার্যকর পদক্ষেপে পাহাড়ে নিরবচ্ছিন্ন শান্তি বজায় থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং বেকার তরুণদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী পাহাড়ের মানুষকে সুরক্ষিত রাখার যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, প্রশাসনিক এই পদক্ষেপে তা আরও শক্ত ভিত্তি লাভ করবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি অনেক সহজ ও সুগম হবে, যা পুরো দেশের সার্বিক উন্নয়ন সূচককে উন্নত করবে।

একটি রাষ্ট্রের মূল শক্তি হলো তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও নাগরিক ঐক্যের বন্ধন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও পাহাড়ি-বাঙালি সহাবস্থান বাংলাদেশের মূল জাতীয় সংস্কৃতির একটি বর্ণিল ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঐতিহাসিক ভুল বোঝাবুঝি ও কৃত্রিমভাবে তৈরি বিরোধ পেছনে ফেলে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে হলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সাথে জনগণের সদিচ্ছার মিলন ঘটাতে হবে। গঠিত তিন কমিটি শুধু একটি প্রশাসনিক রূপরেখা নয়, এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপীড়িত মানুষের মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। সুতরাং এই কমিটিকে কোনো দল বা একক গোষ্ঠীর স্বার্থের চশমায় না দেখে, পুরো দেশের জাতীয় স্বার্থ, শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তনই পারে পাহাড়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত স্থায়ী অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে।

সর্বোপরি পার্বত্য চট্টগ্রামের সুসংহত শান্তি, সুশাসন, নিরাপত্তা এবং টেকসই সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার প্রশ্নে গঠিত এই তিন কমিটিকে আমাদের সকলের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সহিংসতার বিষাক্ত রাজনীতি চিরতরে মুছে ফেলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন এবং স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি সমাজকে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলকে সংঘাতের এলাকা থেকে বের করে এনে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও সম্প্রীতির শান্তিময় ভূমিতে রূপান্তর করা এখন আর কোনো অলীক স্বপ্ন নয়। সরকারের এই সুচিন্তিত প্রজ্ঞাপন ও গেজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়, তবে সকল অপ-প্রচার নস্যাৎ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিশ্চিতভাবেই রচিত হবে স্থায়ী শান্তি, প্রগতি ও নিরাপত্তার এক নতুন গৌরবোজ্জ্বল স্বর্ণালী ইতিহাস।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত