ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নদী বাঁচাতে সমন্বিত উদ্যোগই সময়ের দাবি

নদী বাঁচাতে সমন্বিত উদ্যোগই সময়ের দাবি

ঢাকার চারপাশের নদীগুলো শুধু পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক পথ নয়; রাজধানীর পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য, নগরজীবন ও অর্থনীতির সঙ্গে এসব নদীর সম্পর্ক গভীর। অথচ দীর্ঘদিনের দখল, দূষণ, শিল্পবর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য ও কঠিন বর্জ্যের চাপে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলো আজ অস্তিত্বের সংকটে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য, বাড়ছে জনদুর্ভোগ। ফলে নদী রক্ষার প্রশ্নটি এখন আর শুধু পরিবেশের বিষয় নয়; এটি রাজধানীর টেকসই ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার যে কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবতা হলো, নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা সংস্থার একার পক্ষে সম্ভব নয়। পানি সম্পদ, পরিবেশ, নৌপরিবহন, স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন, শিল্প, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।

বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি জরুরি। পরিশোধন ব্যবস্থা ছাড়া শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নগরীর পয়ঃবর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অভিযান পরিচালনা কিংবা জরিমানা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; দূষণের উৎস চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

নদী রক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও জলাধারগুলো সংরক্ষণ। অনেক খাল ভরাট ও দখলের কারণে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়েছে। তাই নদী, খাল ও জলাধারকে একটি সমন্বিত জলব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী খনন ও পুনঃখননের পাশাপাশি নদী-খালের সংযোগ পুনঃস্থাপন করতে হবে। তবে খননকাজ যেন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবেশগত বিবেচনার সঙ্গে পরিচালিত হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

নদী রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নদীতীরবর্তী জনগণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। নদীকে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করার মানসিকতা বদলাতে হবে।

ঢাকার নদীগুলো বাঁচলে শুধু নদীই বাঁচবে না, বাঁচবে রাজধানীর পরিবেশ, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ নগরজীবন। তাই নদী রক্ষার উদ্যোগ বিচ্ছিন্ন প্রকল্পে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনায় রূপ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত