ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে

ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে

বিদেশি ঋণ বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বড় অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক ঋণের ভূমিকা রয়েছে। তবে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি সময়মতো ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ধরে রাখাও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশ যে পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে, তাতে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশ ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। পরিশোধিত অর্থের মধ্যে মূল ঋণের কিস্তি ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং সুদ ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ঋণ পরিশোধ বেড়ে যাওয়া একদিকে সরকারের বৈদেশিক দায় পরিশোধের দায়িত্বের পরিমাণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে সময়মতো দায় পরিশোধে সক্ষমতার বিষয়টিও সামনে আনে। বিশেষ করে যখন বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ থাকে, তখন ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরও একটি বিষয় এখানে লক্ষণীয়। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিদেশি ঋণের অর্থছাড় হয়েছে মাত্র ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিপরীতে একই সময়ে ২৪ কোটি ডলারের নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নতুন ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি পুরোনো ঋণের দায়ও ক্রমাগত পরিশোধ করতে হচ্ছে। তাই শুধু কত ঋণ পাওয়া যাচ্ছে, তার হিসাব করলেই হবে না; সেই ঋণের ব্যবহার কতটা উৎপাদনশীল এবং তা থেকে ভবিষ্যতে কী পরিমাণ অর্থনৈতিক সুফল আসবে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। বিদেশি ঋণ যদি এমন প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়, যা উৎপাদন বাড়ায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, রপ্তানি আয় বাড়ায় কিংবা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, তাহলে সেই ঋণ দেশের জন্য সম্পদে পরিণত হতে পারে। বিপরীতে কম অগ্রাধিকার বা কম ফলনশীল প্রকল্পে ঋণ ব্যয় হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর তার বোঝা বাড়তে পারে।

এ কারণে নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, সুদের হার, পরিশোধের সময়সূচি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক ঋণঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে ঋণের অর্থছাড় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে লক্ষ্য হওয়া উচিত— প্রয়োজনীয় উন্নয়ন অর্থায়ন নিশ্চিত করা, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ঋণনির্ভরতা এড়িয়ে চলা। ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা এবং ঋণের অর্থের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বৈদেশিক ঋণ দেশের উন্নয়নের সহায়ক শক্তি হিসেবেই কাজ করবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত