প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শিশুরা জাতির ভবিষৎ। আর এ শিশুরা এক এক করে নিখোঁজ বা গুম এমন কি হত্যার শিকার হবে তা কোনো সভ্য সমাজ বা জাতি মেনে নিতে পারে না। এরইমধ্যে দেশে যে হারে শিশু নিখোঁজের খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে গোটা জাতি স্তম্ভিত। এ ব্যাপারে রাষ্ট্র বা সরকারকে নিরব-নির্বিকারের ভূমিকা নিলে চলবে না। আজকাল শিশু-কিশোরাই জাতির কান্ডারি। তাদের চিন্তা-ভাবণা সম্ভবনা এবং সৃজনশীলতার ওপর নির্র্ভর করছে আগামী দিনের বাংলাদেশ। রাষ্ট্র হচ্ছে শিশুদের রক্ষা ও নিরাপওার প্রধান প্রতিষ্ঠান। তবে একথা ঠিক ফেসবুক, মোবাইল, ইন্টারনেটসমূহ পদে পদে শিশুদের-কিশোরদের বিপদ ডেকে আনছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এই সেদিন কুমিল্লায় ১৩ বছরের শিশু অপ্রতিমের নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার কত যে মর্মান্তিক যা ভাষায় প্রকশ করা কষ্টকর। শুধু অপ্রতিম নয়, গত ৮ মাসে দেশে প্রায় ৪০ জন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে শিশু নিখোঁজ ও শিশু হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গোটা দেশ জুড়ে গভীর উদ্ধেগ ও আতংকের জন্ম নিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন সমূহের তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে দেশজুড়ে ১৫,৭১৭ জন শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ উদ্ধার হলেও এখনও প্রায় ২ হাজারের বেশি শিশুর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
বিগত ৮ মাসে নিখোঁজ হওয়া শিশুদের মধ্যে অন্তত ৩৬ জন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুদের অপহরণ, গুম, হত্যা, বা মুক্তিপণ দাবী ইত্যাদি কিসের আলামত? অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের ধর্ষনের পর হত্যা করার প্রবণতাও বেড়েছে। আইন করেও সরকার শিশু, নারী নির্যাতন ও ধর্ষন প্রতিরোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। আবার অনেক শিশু-কিশোর বয়সের মেয়ে বালিকারা ফেসবুকে তথাকিত প্রেমের টানে পরিচিত-অপরিচিত চক্রের ফাঁদে পরে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হতে দেখা যায়। মূলতঃ পিতা-মাতার অবহেলা ও উদাসীনতা এখানে অনেকটা দায়ী। তবে সর্তক থাকা ভাল, বিয়ে বা হলুদ-মেহেদী অনুষ্ঠানসহ যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে মেয়ে শিশু ও উঠতি বালিকা বা কিশোরীদের অভিভাবক ছাড়া যেতে দেওয়া ঠিক নয়। এমনকি বান্ধবীদের বাসায় বেড়ানোর নাম করে পার্কে ঘুরতে যাওয়া বন্ধ করা উচিৎ। যে হারে আজকাল পার্কে প্রকাশ্যে কিশোর-কিশোরীদের নোংরামি বেড়েছে তা সমাজকে এরইমধ্যে কুলশিত করে তুলছে। দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সুশীল সমাজ মনে করে নিখোঁজ প্রতিটি শিশুর ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পারিবারিক বিরোধ, মানসিক চাপ, দারিদ্র বা সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে কোন শিশু বাসা-বাড়ী থেকে বেরিয়ে গেলেও তাকে দ্রুত খুঁজে বের করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে এসেছে যা সত্যিই দেশবাসী উদ্বিগ্ন না হয়ে পারছে না। আজকাল শিশু-কিশোরদের পিতা-মাতারা বকা-ঝকা করলেই বাচ্চারা রাগ করে বাসা থেকে অজানা পথে বের হয়ে নিজেদেরকে বিপদে পরতে দেখা যায়। বহু শিশু-নাবালিকারাও একই আচরণ করছে। এ ধরনের শিশু-কিশোররা অহরহ অপরাধ চক্রের খপ্পড়ে পরছে এবং নানা কারণে নিখোঁজ হয়ে থাকে। গত সাত মাস ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু নিখোঁজ ও গুমের ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা শিশুরা কোন পাচার চক্রের শিকার হচ্ছে কি-না অথবা অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পরছে কি-না তা দেশের মানুষের মধ্যে অনেকটা ভয় ও শঙ্গা দেখা দিয়েছে। শিশু হত্যা, গুম, নিখোঁজ এর সবকিছুর জবাবদিহিতা সরকার বা রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে। এখনও বহু নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে দেশের গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্গলাবাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগ এবং তাদের কর্মকান্ডে নজরদারী বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। একই সাথে সরকারকে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার ও ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
লেখক : গণমাধ্যমকর্মী