প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০১ অক্টোবর, ২০২৬
প্রবীণরা একটি সমাজের অতীত অভিজ্ঞতা, বর্তমানের সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবন্ত জ্ঞানভাণ্ডার। অথচ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রবীণকে শারীরিক অসুস্থতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, একাকিত্ব, পারিবারিক দূরত্ব এবং সামাজিক অবহেলার মুখোমুখি হতে হয়। তাই প্রবীণদের কল্যাণ শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতি বছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়। ১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৫/১০৬ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে দিনটি নির্ধারিত হয়। পরে ১৯৯১ সালে প্রবীণদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় জাতিসংঘের নীতিমালা এবং ২০০২ সালে মাদ্রিদ আন্তর্জাতিক প্রবীণ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বিশ্বে বাড়ছে প্রবীণ জনসংখ্যা : বিশ্ব দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যার দিকে এগোচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ২০২০ সালে বিশ্বে ৬০ বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০ কোটি। ২০৩০ সালে তা বেড়ে প্রায় ১৪০ কোটিতে এবং ২০৫০ সালে প্রায় ২১০ কোটিতে পৌঁছাবে।
২০১৫ সালে বিশ্ব জনসংখ্যায় ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের অংশ ছিল প্রায় ১২ শতাংশ; ২০৫০ সালে তা প্রায় ২২ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৩ সালে বিশ্বে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১১০ কোটি। ২০৫০ সালে তা প্রায় ২১০ কোটিতে পৌঁছাবে। একই সময়ে ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়বে। অর্থাৎ শুধু প্রবীণের সংখ্যা নয়, অতি প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বাড়ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, গণপরিবহন, সামাজিক নিরাপত্তা, নগর পরিকল্পনা ও পারিবারিক যত্নের ব্যবস্থাকেও পরিবর্তিত করতে হবে। বাংলাদেশের চিত্র : বাংলাদেশেও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জনসংখ্যা ও আবাসন শুমারি ২০২২-এর বয়সভিত্তিক হিসাবে ৬০-৬৪ বছর বয়সীরা মোট জনসংখ্যার ৩.৩৯ শতাংশ, ৬৫-৬৯ বছর ২.৩৮ শতাংশ, ৭০-৭৪ বছর ১.৭১ শতাংশ, ৭৫-৭৯ বছর ০.৭৪ শতাংশ এবং ৮০-৮৪ বছর ০.৫৬ শতাংশ। ৮৫-৮৯ বছর বয়সী ০.২০ শতাংশ, ৯০-৯৪ বছর ০.১৬ শতাংশ, ৯৫-৯৯ বছর ০.০৭ শতাংশ এবং ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী ০.০৭ শতাংশ। ৬০ বছর ও তার বেশি বয়সকে প্রবীণ হিসেবে ধরলে ২০২২ সালে বাংলাদেশের প্রবীণ জনসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯.৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় দেড় কোটি মানুষ। ২০১১ সালে এ হার ছিল প্রায় ৭.৪৭ শতাংশ। ফলে মাত্র এক দশকের ব্যবধানে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি— বাংলাদেশের নীতিগত আলোচনায় সাধারণত ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিকে প্রবীণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, অথচ অনেক আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সকে ভিত্তি ধরা হয়। তাই দুটি বয়সসীমার পরিসংখ্যান সরাসরি তুলনা করা ঠিক নয়। ২০৫০ সালের বাংলাদেশ : সরকারের সামাজিক সুরক্ষা-সংক্রান্ত একটি ধারণাপত্রে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালে বাংলাদেশে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ হতে পারে এবং মোট জনসংখ্যায় তাদের অংশ প্রায় ২১.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে প্রতি পাঁচজন বাংলাদেশির মধ্যে প্রায় একজন প্রবীণ হতে পারেন। এ পূর্বাভাস আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। কারণ প্রবীণের সংখ্যা বাড়লে শুধু ভাতা বাড়ালেই হবে না; চিকিৎসা, পুনর্বাসন, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা, নিরাপদ আবাসন, চলাচলের সুবিধা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার চাহিদাও বাড়বে। প্রবীণদের প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি : বয়স বাড়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্?রোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার, আর্থ্রাইটিস, অস্টিওপোরোসিস, চোখের সমস্যা, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া এবং স্মৃতিভ্রংশের মতো সমস্যা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে হাঁটা, ভারসাম্য, দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য, প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। প্রবীণদের ক্ষেত্রে একসঙ্গে একাধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকা অস্বাভাবিক নয়। ফলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু একটি রোগের দিকে নজর না দিয়ে ব্যক্তির সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ : প্রবীণদের স্বাস্থ্য বলতে শুধু শরীরের অসুস্থতা বোঝালে চলবে না। একাকিত্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, প্রিয়জন হারানো, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং নিজের ওপর নির্ভরশীলতা কমে যাওয়ার অনুভূতি মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রায় ১৫ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যার সঙ্গে বসবাস করেন। প্রবীণদের মধ্যে একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী প্রায় প্রতি ছয়জন প্রবীণের একজন নির্যাতনের শিকার হন বলে 'ডব্লিউএইচও' উল্লেখ করেছে। তাই প্রবীণকে শুধু ওষুধ খাওয়ানো নয়, তার সঙ্গে কথা বলা, সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। একাকিত্বকে অবহেলা নয় : 'ডব্লিউএইচও'-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১১.৮ শতাংশ প্রবীণ একাকিত্ব অনুভব করেন এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগ কমে গেলে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, জীবনমান এবং দীর্ঘায়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রতিটি পরিবারে প্রবীণের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, হাঁটাচলা বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং পারিবারিক সিদ্ধান্তে তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
প্রবীণ নারীর বাস্তবতা : প্রবীণ নারীরা অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক ও সামাজিকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকেন। দীর্ঘদিন গৃহস্থালির কাজে যুক্ত থাকা, নিজস্ব আয় না থাকা, স্বামী হারানো, সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কে দুর্বলতা এবং চিকিৎসা গ্রহণে পরিবারের ওপর নির্ভরশীলতা তাদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রবীণ নারীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টি, নিরাপদ আবাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং আইনগত সহায়তার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। বয়স্ক ভাতা : সামাজিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, বাংলাদেশে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬১ লাখ মানুষ এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকা এবং এ খাতে বাজেট ৪ হাজার ৭৯১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। কর্মসূচিটি ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে মাত্র ৪ লাখ ৩ হাজার উপকারভোগী নিয়ে শুরু হয়েছিল। তবে প্রবীণ জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে ভাতার আওতা, পরিমাণ, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং অর্থপ্রাপ্তির সহজতা নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা প্রয়োজন। শান্তি নিবাস ও বৃদ্ধাশ্রম প্রসঙ্গ : বাংলাদেশে সব প্রবীণের জন্য বৃদ্ধাশ্রমকে সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়। পরিবারের সামর্থ্য ও প্রবীণের নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তবে যেসব প্রবীণের দেখাশোনার মতো কেউ নেই, যারা পরিত্যক্ত বা অসহায়, তাদের জন্য নিরাপদ আবাসন ও পরিচর্যার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি শিশু পরিবারের অভ্যন্তরে ৮ বিভাগে ৮টি শান্তি নিবাসে মোট ২০০টি আসন রয়েছে। বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমের সঠিক জাতীয় সংখ্যা নিয়ে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ সরকারি তথ্য সীমিত। তাই যাচাই ছাড়া নির্দিষ্ট সংখ্যা বা নারী-পুরুষের অনুপাতকে জাতীয় পরিসংখ্যান হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
প্রবীণদের তথ্যভান্ডার আরও শক্তিশালী করা : প্রবীণদের নিয়ে কার্যকর নীতি তৈরির জন্য নির্ভরযোগ্য ও নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিকল্পনা নথিতেও ২০২৬ সালে প্রবীণ জনগোষ্ঠী বিষয়ে পরিসংখ্যান তৈরির কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে। বয়স, লিঙ্গ, আয়, বসবাসের ধরন, স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধিতা, একাকিত্ব এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতাভুক্তির মতো বিষয়ভিত্তিক তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা গেলে প্রবীণদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ সহজ হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনে প্রবীণদের ঝুঁকি : তীব্র গরম, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য দুর্যোগের সময় প্রবীণরা বিশেষ ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। বিশেষ করে যাদের চলাচলের ক্ষমতা সীমিত বা যারা একা থাকেন, তাদের জন্য দুর্যোগকালীন আলাদা সহায়তা পরিকল্পনা থাকা দরকার। আশ্রয়কেন্দ্রে প্রবীণদের ওষুধ, চিকিৎসা, খাবার ও নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। আইনেও রয়েছে দায়িত্ব : প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ গুরুত্বপূর্ণ। আইনে ভরণ-পোষণের মধ্যে খাবার, বস্ত্র, চিকিৎসা, বসবাসের সুবিধা এবং সঙ্গ দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সক্ষম সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধ নিবাস বা অন্য কোথাও বসবাসে বাধ্য করাও আইনে নিষিদ্ধ। আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পরিবারই প্রথম নিরাপদ আশ্রয় : প্রবীণের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় অনেক সময় দামি চিকিৎসা নয়, বরং সম্মান ও সঙ্গ। পরিবারের সদস্যরা যদি নিয়মিত খোঁজ নেন, চিকিৎসার সময় পাশে থাকেন, খাবার ও ওষুধের বিষয়ে সচেতন থাকেন এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দেন, তাহলে অনেক মানসিক কষ্ট কমানো সম্ভব। প্রবীণকে 'অকেজো' মনে করা সামাজিকভাবে ক্ষতিকর। তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা, পারিবারিক ইতিহাস ও মূল্যবোধ পরবর্তী প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করতে পারে। রাষ্ট্র ও সমাজের করণীয় : প্রবীণবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন— উপজেলা পর্যায়ে প্রবীণদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শসেবা বাড়ানো। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্?রোগ, চোখ ও শ্রবণ সমস্যার নিয়মিত স্ক্রিনিং নিশ্চিত করা। প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও একাকিত্ব মোকাবিলায় স্থানীয় সামাজিক সহায়তা গড়ে তোলা। দরিদ্র ও অসহায় প্রবীণের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা আরও কার্যকর করা। হাসপাতাল ও গণপরিবহনকে প্রবীণবান্ধব করা। হাঁটার নিরাপদ পথ, বসার স্থান ও জনসাধারণের স্থাপনায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। প্রবীণ নারীদের আর্থিক ও আইনগত সুরক্ষা বাড়ানো। পরিত্যক্ত ও অসহায় প্রবীণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পরিচর্যা কেন্দ্রের মান ও তদারকি বাড়ানো। পরিবারের সদস্য ও পরিচর্যাকারীদের প্রবীণ পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। প্রবীণদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা। প্রবীণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি কোনো বিচ্ছিন্ন জনমিতিক পরিবর্তন নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সমাজ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার কাঠামোকে নতুনভাবে ভাবার বিষয়। আজকের কর্মক্ষম মানুষই আগামী দিনের প্রবীণ। তাই প্রবীণদের জন্য বিনিয়োগ মানে শেষ বয়সের মানুষের জন্যই শুধু নয়— নিজেদের ভবিষ্যতের জন্যও বিনিয়োগ। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বয়স বাড়া কোনো অপরাধ নয়, বরং জীবনের স্বাভাবিক পরিণতি। একটি সভ্যসমাজের পরিচয় শুধু তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নয়; বরং সে সমাজ তার প্রবীণ মানুষকে কতটা নিরাপত্তা, চিকিৎসা, সম্মান, সঙ্গ ও মর্যাদা দিতে পারে— সেখানেও তার মানবিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। প্রবীণবান্ধব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলাই হোক আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬-এর অন্যতম অঙ্গীকার।
লেখক : কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক