প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করলেই প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু পরিস্থিতির চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামবাসীর মধ্যেও এক নতুন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিজিএইচএস কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৪৮ জন মারা গেছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ জন মারা যান। শহর থেকে গ্রাম কোনোভাবেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। এজন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং এডিস মশার বংশ বিস্তার বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমরা সবাই প্রায় সময়ে যত্রতত্র পলিথিন, প্লাস্টিক ও ময়লা আবর্জনা ফেলে থাকি। ফলে আমাদের চারপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। যার কারণে ড্রেনে এসব বর্জ্য আটকে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলাফল স্বরূপ, এসব জমানো পানিতেই এডিস মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে। তাই সবাইকে নির্দিষ্ট স্থানে বা ডাস্টবিনে ময়লা আবর্জনা ফেলতে হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বারান্দা, বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ও দোকান-পাটে কোথাও কোনো পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
অন্যদিকে পড়ে থাকা টায়ার, বালতি, ফুলের টব, ড্রাম ও বোতল, যে সকল স্থানে পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে সেই স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখতে হবে। প্রতি সপ্তাহে আমাদের চারপাশ ও বাড়ির আঙিনায় জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। চতুর্থত, নালা-নর্দমাসহ পরিত্যক্ত জায়গায় পানি জমে কিনা, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। পঞ্চমত, এডিস মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে দরজা-জানালায় জাল এবং ঘুমানোর আগে মশারি টানিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যা হওয়ার আগেই দরজা-জানালা বন্ধ করতে হবে। অনেকে গরমের কারণে মশারি টাঙিয়ে নিতে চাই না কারণ মশারির ভিতরে বাতাস ঢুকতে পারে না। প্রয়োজনে রুমের মধ্যে ফ্যান ছেড়ে মশা বাহির করে নিতে হবে। ষষ্ঠত, বর্তমানে উন্নত মানের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করেও মশা নিধন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সকলের সচেতনতা জরুরি। কেননা সচেতনতার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও আদর্শ দেশ গড়ে তুলতে পারি। সপ্তমত, সরকারিভাবে শহরে মশক নিধনে স্প্রে করে কিন্তু গ্রামে তা কখনও কোথাও দেওয়া হয় না। অনেক সময় স্প্রে করার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও সরকারি কর্মচারীদের গাফিলতির কারণে নির্ধারিত সময়ে দেওয়া হয় না। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই এডিস মশার বংশ বিস্তার বৃদ্ধি পায়। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা করা শুধু সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, বরং পরিবার, ব্যাক্তি ও সামাজিক সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিন।
লেখক : শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি