প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্র, পাহাড়, জীববৈচিত্র্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে কক্সবাজারের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। অথচ সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের অভাবসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এ সম্ভাবনার পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় মালয়েশিয়ার সুলভ মূল্যের বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়ার কক্সবাজার-পেনাং সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু এবং রানওয়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। প্রায় ৩৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন টার্মিনাল এবং ১০ হাজার ৭০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করেছে। এখন প্রয়োজন এসব অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
কক্সবাজার-পেনাং সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে দুই অঞ্চলের পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কাঠমান্ডু, কুনমিং এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার আঞ্চলিক পর্যটন যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে।
তবে শুধু বিমানবন্দর নির্মাণ কিংবা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করলেই পর্যটনশিল্পের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ ঘটবে না। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন সৈকত, মানসম্মত হোটেল-রিসোর্ট, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বিনোদন সুবিধা, দক্ষ পর্যটনকর্মী এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবার নিশ্চয়তা দিতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, হয়রানিমুক্ত পরিবেশ ও যৌক্তিক ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কক্সবাজারের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরিকল্পিত স্থাপনা, প্লাস্টিক দূষণ, পাহাড় কাটা ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পর্যটন উন্নয়নের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না। উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও জরুরি। এয়ার এশিয়ার আগ্রহকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিমানবন্দর শুধু যাত্রী পরিবহনের অবকাঠামো নয়, এটি একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রবেশদ্বার। পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন উন্নয়নের মাধ্যমে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।