প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে কৃষকের অবদান অপরিসীম। অথচ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কারিগর কৃষক নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ফসল উৎপাদন করেন। কখনও সার, বীজ ও কীটনাশকের বাড়তি দাম, কখনও সেচের সংকট, আবার কখনও উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে তাদের প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এ বাস্তবতায় কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আসছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোগটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কৃষক কার্ডের অন্যতম গুরুত্ব হলো কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি করা। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করা, তাদের চাহিদা নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তা সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে কৃষি উপকরণে সহায়তা পেলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমবে। তবে এ ক্ষেত্রে কৃষকের প্রকৃত পরিচয় ও জমিতে চাষাবাদের তথ্য যাচাই করে তালিকা তৈরি করতে হবে, যাতে কোনো প্রকৃত কৃষক বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির সফলতার জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা, সহজ অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং নিয়মিত তদারকি থাকতে হবে। বিশেষ করে নারী, বর্গাচাষি, ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তবে কৃষকের উন্নয়ন শুধু উপকরণ সহায়তায় সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, উন্নত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচসুবিধা এবং ফসল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়াতে হবে।
কৃষক ভালো থাকলে কৃষি ভালো থাকবে, আর কৃষি ভালো থাকলে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তাই কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে সাময়িক সহায়তা নয়, বরং কৃষকের মর্যাদা, অধিকার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে।