ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কারাগারে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হোক

কারাগারে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হোক

কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পুষ্টি ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করা মানবিক দায়িত্ব। অপরাধের দায়ে মা কারাবন্দি হলেও তার শিশুসন্তান কোনো অপরাধ করেনি। অথচ মায়ের সঙ্গে কারাগারে অবস্থান করায় এসব শিশুকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে হয়। এ বাস্তবতায় দেশের কারাগারগুলোতে শিশুদের চিকিৎসাসেবা উন্নত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স বৃদ্ধি, ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসক নিয়োজিত রাখার উদ্যোগ ইতিবাচক।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ নারী বন্দির সঙ্গে ৩৫০টি শিশু অবস্থান করছে। কারা বিধি অনুযায়ী, ছয় বছরের কম বয়সী শিশুরা মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকতে পারে। বর্তমানে আটটি কারাগারে ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৭৫টি কারাগারে এ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিশুদের পরিচর্যা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি আসবে।

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন সুষম পুষ্টি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, খেলাধুলা এবং বয়স উপযোগী শিক্ষা। কারাগারে শিশুদের জন্য খাবার, পোশাক, খেলাধুলার সামগ্রী ও প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও তা পর্যাপ্ত কি না, নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নবজাতক ও দুগ্ধপোষ্য শিশুদের পুষ্টি, টিকাদান, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষিত নার্স ও পরিচর্যাকারী নিয়োগ জরুরি। প্রতিটি কারাগারে শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় জনবল, অর্থায়ন ও অবকাঠামোও নিশ্চিত করতে হবে।

শিশুদের মানসিক বিকাশের বিষয়টিও সমান গুরুত্বের দাবি রাখে। বন্দিদশার পরিবেশ তাদের স্বাভাবিক শৈশবকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই ডে-কেয়ার সেন্টারে খেলাধুলা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সম্ভব হলে শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নিরাপদ বিকল্প পরিচর্যার ব্যবস্থাও মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

কারাগার শুধু শাস্তি কার্যকরের স্থান নয়; সংশোধন ও পুনর্বাসনের পরিবেশও হতে হবে। এ ক্ষেত্রে বন্দি মায়েদের সন্তানদের কল্যাণ নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের নেওয়া উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি, সেবার মান মূল্যায়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কারাগারের দেয়ালের ভেতরেও প্রতিটি শিশু যেন স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ শৈশব পায়— এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত