প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
বাংলাদেশে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শুধু অপ্রত্যাশিত ঘটনা নয়, বরং কর্মচারী-কর্মকর্তাদের পরিকল্পনামাফিক। ফলে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা কে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সম্প্রতি, গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, চাকরিপ্রার্থীরা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে রাজধানীতে এসে যখন পরীক্ষার আগ মূহুর্তে জানতে পারে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনাটি দেশের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তখন অনেকের সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখীন হন যারা মেধাবী ও দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠে। চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপসংস্কৃতির জন্য তরুণদের স্বপ্নে সবচেয়ে বড় অন্তরায়। অথচ ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছিল চাকরিতে অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রতিবাদে। এখন জনমনে প্রশ্ন জাগে যে তরুণদের রক্তের বিনিময়েও কি এই বৈষম্যে, অনিয়ম, দুর্নীতিও প্রশ্ন ফাঁস কখনও শেষ হবে না? চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে অনেকের আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন। অনেকে টিউশনির টাকা জমিয়ে, কেউ আবার ধারদেনা করে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে রাজধানীতে আসে। ফলে অনেক চাকরি প্রার্থীদের চরম আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল। অনেকের হয়ত চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা অংশগ্রহণের মেয়াদ শেষ এটাই তাদের শেষ সুবর্ণ সুযোগ ছিল। এই ভোগান্তির নেপথ্যে কারা? এই দায়ভার কে নিবেন? প্রায় সব প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত বেশকিছু অসাধু কর্মকর্তারা। বিশেষ করে যারা অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তারাই মূলত এ চক্রে সব চেয়ে বেশি জড়িত থাকে। অনেক শিক্ষা- প্রতিষ্ঠান এখনও সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে করণীয় কি? এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, যে সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত ও দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, প্রশ্ন মুদ্রণ,প্রণয়ন ও বিতরণে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, প্রশ্ন ফাঁসের উপযুক্ত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই যাচাই-বাছাই করে অতি দ্রুত পরীক্ষা বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। পঞ্চমত, প্রতিটি ক্ষেত্রে সকলের জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক নিশ্চিত করতে হবে। ষষ্ঠত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি ধাপে-ধাপে সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। সর্বোপরি, দেশের প্রতিটি চাকরি প্রার্থীরা অবাধ নিরাপদ ও বৈষম্যহীন প্রতিযোগিতার সুযোগ চাই।
লেখক : শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি