ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙার বুলডোজার আটকে দিল সেনাবাহিনী

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙার বুলডোজার আটকে দিল সেনাবাহিনী

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে উপস্থিত জনতার ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এদিকে দুটি বুলডোজার ধানমন্ডি-৩২-এ প্রবেশের চেষ্টা করলে রুখে দিয়েছে সেনাবাহিনী। তারা বলছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ ধরনের কাজ করতে দেওয়ার সুযোগ নেই। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ট্রাকে করে বুলডোজার দুটি নেওয়া হয় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে। এ সময় বুলডোজারের ওপর কিছু তরুণকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এরপর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ওই তরুণদের বুলডোজার থেকে নামিয়ে দেয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক্সকাভেটর নিয়ে এগোতে চাইলে ছাত্র-জনতাকে ঠেকাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ আটকানোর চেষ্টা ও পরে লাঠিচার্জ করে। এতে ছাত্র-জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। হঠাৎ পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় পুরো এলাকা থমথমে বিরাজ করছে। এক্সকাভেটরসহ অবস্থান নেওয়া ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগবিরোধী নানা স্লোগান দিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলে। তাদের স্লোগানের মধ্যে ছিল- ‘মুজিব বাদের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’, ‘৩২ নম্বর বাড়িটি ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি।

এসময় ছাত্রদের একাংশ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘যত বাধাই আসুক, খুনি শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার পরপরই আমরা ৩২ নম্বর বাড়িটি গুঁড়িয়ে দিতে চাই। এখান থেকেই আমাদের ভাই-বোন, মা-বাবাকে গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই বাড়ির কোনো স্মৃতি আর রাখতে চাই না।’

জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে নাহিদ হাসান নামের একজন বলেন, ‘যেবার প্রথম শেখ হাসিনা বক্তব্য দেয় পালিয়ে যাওয়ার পর, সেবার আমরা প্রথম ধানমন্ডি ৩২ ভেঙেছিলাম। তখন নিশ্চিহ্ন করতে পারিনি। আজকে যেহেতু শেখ হাসিনার রায়, আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের রাজনীতি আমরা আশা করছি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।’

এর আগে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে একটি বুলডোজার এসে গুঁড়িয়ে দেয় ৩২ নম্বরের বাড়ি। সেদিন একটি এক্সকাভেটরও আসে সেখানে।

তারও আগে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটি আগুনে পুড়িয়ে দেয় ছাত্র-জনতা।

‘ধানমন্ডি ৩২ গুঁড়িয়ে না দিলে আওয়ামী প্রেতাত্মারা ওখানে কাহিনি করতে থাকবে’ -আবরার ফাইয়াজ : আগেরবার ৩২ নম্বর ভাঙা দেখে ঠিকমতো শান্তি পাইনি, খুব বেশি হলে ১৫ শতাংশ ভাঙা হয়েছিল। সহজেই ভাঙা অংশ ঠিক করা সম্ভব বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হাতে খুন হওয়া বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ। গতকাল সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আগেরবার ৩২ নম্বর ভাঙা দেখে ঠিকমতো শান্তি পাইনি, খুব বেশি হলে ১৫ শতাংশ ভাঙা হয়েছিল।

সহজেই ভাঙা অংশ ঠিক করা সম্ভব। যতদিন না ধানমন্ডি ৩২ মাটির সমান হবে, ততদিন দুই-একটা আওয়ামী দেশবিরোধী প্রেতাত্মা দুদিন পর পর গিয়ে ওখানে কাহিনি করতে থাকবে। যদি এবারই সমান করতে পারেন- ভালো হয়, নাহলে বাংলাদেশের মধ্যে ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর কিবলা যতদিন দাঁড়িয়ে থাকবে, সমস্যা করতেই থাকবে। সবচেয়ে ভালো হবে- ওইখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের হল করে দেওয়া গেলে, খেলা শেষ একেবারেই তখন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে মারাত্মক আহত করার অভিযোগে হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা হয়। যার রায় দেওয়া হবে আজ। গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আলোচিত এই মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত