ঢাকা বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কাঁপছে ভোটের মাঠ

ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদের ওপর হাত দেব না

বললেন শফিকুর রহমান
ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদের  ওপর হাত দেব না

ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদের উপর হাত না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “জামায়াত জোট ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদের উপর হাত দেবে না। মহান আল্লাহর নামে শপথ করলাম, ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদের উপর হাত দেবে না।” গতকাল সোমবার দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে অনেক দলকে দেখেছেন, অন্তত একটিবার জামায়াতে ইসলামীকে সুযোগ দিয়ে দেখেন, আমরা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে পারি কিনা। জামায়াতে ইসলামীকে বিজয়ী করলে, দেশে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, ইতোপূর্বে চার দলীয় জোট সরকারের সময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দুজন মন্ত্রী ছিলেন, তারা শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। তাই চাঁদাবাজ সন্ত্রাস ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠনে জামায়াতে ইসলামকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান দলটির আমীর।

মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির ও মেহেরপুর-১ (সদর-মুজিবনগর) আসনের প্রার্থী তাজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে জনসভায় মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে দলটির প্রার্থী নাজমুল হুদা এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা বক্তব্য দেন।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিনের পরিচালনায় এতে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, মেহেরপুর পৌর আমির সোহেল রানা ডলার, মুজিবনগর উপজেলা আমির খান জাহান আলী, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক শাকিল আহামেদ, জেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক রফিকুজ্জামান, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি হুসাইন আহমেদ বক্তব্য দেন।

নদী খননের টাকা মুখ দিয়ে ঢুকে পেটে চলে গেছে : খননের অভাবে কুষ্টিয়ার প্রধান নদী পদ্মা ও গড়াই মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গতকাল সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব অভিযোগ করেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘এই নদী খননের জন্য প্রত্যেক বছর বাজেট থাকে। নদী খননের সমস্ত টাকা মুখ দিয়ে ঢুকে পেটের ভেতর চলে যায়; নদীর বালি আর ওঠে না। খননও হয় না। উন্নয়নের নামে ৫৪ বছর কম-বেশি যারাই ক্ষমতায় গিয়েছেন, এই একই কাজ তারা করেছেন।’

হেলিকপ্টারে জনসমাবেশে যোগ দেওয়া শফিকুর রহমান বলেন, ‘উপর থেকে দেখছিলাম, পদ্মা-গড়াই নদী নয়, যেন মরুভূমি। এটা যখন মরুভূমি হয়ে গিয়েছে, তখন উপর থেকে যখন ঢলের পানি আসে, তখন আর নদীতে থাকে না। দুই কূল ভাসিয়ে সবকিছুকে তছনছ করে দেয়। নদী ভাঙনের কবলে অনেক মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছে। কেন এমনটা হলো? নদী তো আল্লাহর নিয়ামত। আমাদের দেশে আল্লাহর অশেষ এই নিয়ামতগুলোকে তিলেতিলে খুন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে।’

‘আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, যারা ৫৪ বছর ধরে দেশটাকে খাবলে খামচে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্র পরিবর্তন না হলে দেশের জন্য ভালো কিছুই করতে পারবে না,’ যোগ করেন তিনি।

দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ায়। এখানে প্রতি ট্রাক থেকে চাঁদা তোলা হয় অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘এখান থেকে চাল বোঝাই করে ট্রাক রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। প্রতিটি ট্রাক থেকে বেসরকারি খাজনা আদায় করা হয়। চাঁদা বললে মানুষ একটু লজ্জা পায়, এইজন্য বললাম বেসরকারি খাজনা। রেটও ভালো। প্রতি ট্রাকে ৫০০০ টাকা। এতে ট্রাকের মালিক ও চালকল মালিকরা অতিষ্ঠ।’

কুষ্টিয়ার চিনিকল বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘কুষ্টিয়া চিনিকল বন্ধ হয়ে আছে। দুনিয়ার সব জায়গায় ইন্ডাস্ট্রির বিস্তার ঘটছে, আর আমাদের একটা একটা করে তালা ঝুলানো হয়েছে। শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামে আমির যখন শিল্পমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন আজ থেকে আর কোনো সরকারি কল কারখানায় তালা ঝুলবে না। বরঞ্চ তালা যেখানে যেখানে আছে সেগুলো খোলার চেষ্টা করবো এবং তিনি তাই করেছিলেন। বন্ধ লোকসানি চিনিকলগুলা খুলে দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সেইগুলাকে মাত্র আড়াই বছরের মাথায় লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি জনগণ যদি সুযোগ দেয় বাংলাদেশের সকল সেক্টরে বিপ্লব ঘটবে।’

কুষ্টিয়ায় জনসভা শেষে তিনি রওনা দেন মেহেরপুরের উদ্দেশে। সেখান থেকে চুয়াডাঙ্গা ও পরে ঝিনাইদহের জনসভায় ভাষণ দেবেন শফিকুর রহমান।

চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখানো হবে : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখাতে হবে। জামায়াতের কেউ আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে মাথা নত করে না। নির্বাচনি মাঠে কেউ যদি ফ্যাসিবাদের চেহারা নিয়ে আসে, তাহলে তাকে লাল কার্ড দেখানো হবে।’

গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গার টাউন ফুটবল মাঠে ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদি ২৪-এর বিপ্লবের একজন নায়ক। সে কারও কাছে মাথা নত করেনি বলেই তাকে শহীদ করা হয়েছে। যে দেশে শহীদ আবরার ফাহাদ, শহীদ আবু সাঈদদের জন্ম হয়, সে দেশে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের জয় হয়েছে। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও ইসলামের জয় হবে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের কোনো জনপ্রতিনিধির সম্পদ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে না। জনগণের সামনে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা তাদের সম্পদের হিসাব দেবে। তাই আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে সুশাসন নিশ্চিত করবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা খাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না, দলীয় কর্মীদের পেট ভরানোর জন্যও রাজনীতি করি না। এ দেশের দুঃখী, ভুখা, নাঙ্গা মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে এবং পিঠে কাপড় তুলে দিতে রাজনীতি করি।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সবাই যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করে, তাহলে দেশ জয়ী হবে। আগামী দিনে আর কোনোভাবেই দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘ভোটের পাহারা দিতে হবে। কেউ যদি ভোট দখল করতে আসে, তাহলে সেটি প্রতিরোধ করতে হবে।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে জনসভায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান এবং এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদের সঞ্চালনায় জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারাসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত