
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে আসনটির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আবদুর রহমান মাছউদ বলেছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই আসনে পুনরায় নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
ইসি মাছউদ জানান, বর্তমানে সারা দেশে ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সরাসরি ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’র কাছে অভিযোগ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা যদি নিজে আইন ভঙ্গ করেন বা কোনো প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেন, তবে তার বিরুদ্ধেও ইনকোয়ারি কমিটির কাছে অভিযোগ দেওয়া যাবে। অভিযোগ গুরুতর প্রকৃতির হলে সরাসরি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
দেশের সামগ্রিক নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এই কমিশনার বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে। দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছে আমাদের আবেদন- একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তারা আমাদের সহায়তা করবেন। সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনের এক প্রার্থীর সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের বিষয়ে ইসি মাছউদ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
দলীয় প্রার্থী বাদলের মৃত্যুতে শোকাহত জামায়াত আমির : শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. নূরুজ্জামান বাদলের (৫১) মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
এক শোবার্তায় তিনি বলেন, কঠিন ও প্রতীকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বাদল নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছেন, যা তার দৃঢ়তা, সাহস ও দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত। বুধবার জামায়াতে ইসলামীর আমির শোকবার্তায় বলেন, চিরদিনের জন্য চলে গেলেন আমাদের প্রিয় ভাই নূরুজ্জামান বাদল। শেরপুর-৩ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী, শেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. নূরুজ্জামান বাদলের ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। জামায়াত আমি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রতি তার অঙ্গীকার ছিল অটুট। অল্প কিছুদিন আগেই নিজের চোখের সামনে রেজাউল করিমকে সন্ত্রাসীদের হাতে শহীদ হতে দেখার মতো মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হয়েও তিনি মনোবল হারাননি। কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছেন, যা তার দৃঢ়তা, সাহস ও দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আল্লাহতায়ালার কাছে মরহুমের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান হিসেবে কবুল করার জন্য দোয়া করছি। সেই সঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর আলোকে প্রার্থীর মৃত্যুসংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হবে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলে নুরুজ্জামান বাদল। শবে বরাত রাতে সমস্যা বেড়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কোনো প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করার বিষয়ে বাংলাদেশের আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।