ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ঢামেকে জাবেরসহ কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই

বলল অন্তর্বর্তী সরকার
ঢামেকে জাবেরসহ কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শুক্রবার বিকাল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।

বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনও ধরনের গুলি ছোড়েনি। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এতথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনও ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনও ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছে। সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনি সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনও ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সব নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

যমুনার সামনে ৩ জন নিহতের খবর সত্য নয় : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ’ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশের গুলিতে যমুনার সামনে আন্দোলনরত তিন জন নিহত হয়েছেন। কমপক্ষে আরও ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে প্রেস উইং ফ্যাক্ট যাচাইয়ে এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রেস উইং ফ্যাক্টস এ তথ্য জানায়।

প্রেস উইং ফ্যাক্টসের পক্ষ থেকে বলা হয়, কী-ওয়ার্ড সার্চে একাধিক গণমাধ্যমে যমুনার সামনে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেলেও কোথাও নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া অন্য কোনও নির্ভরযোগ্য সূত্রেও পাঁচ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। একাধিক গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ী, আজ নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মচারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এক পর্যায়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে যমুনার সামনের এলাকা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলেও তারা অবস্থান অব্যাহত রাখেন।

এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ, লাঠিচার্জসহ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করতে থাকেন তারা। আন্দোলনকারীরা পিছু হটে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের দিকে অবস্থান নেন। সেখানে অবস্থান ধরে রাখলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সোয়া ১টার দিকে আবারও বলপ্রয়োগ করে পুলিশ। তখন আন্দোলনরতদের লক্ষ্য করে কয়েক দফা সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। এতে তাদের একটি অংশ শাহবাগের দিকে এবং আরেকটি অংশ বাংলামোটরের দিকে চলে যায়। অর্থাৎ, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলেও তিন জন নিহত হওয়ার দাবি মিথ্যা।

হাদি হত্যার তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার : ইনকিলাব মঞ্চের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত পরিচালনার জন্য জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে চিঠি পাঠাবে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। গতকাল শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত