ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সক্রিয় সরকার

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা, কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনাসহ নেওয়া হচ্ছে নানা সিদ্ধান্ত
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সক্রিয় সরকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে একাধিক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি গাড়ি, চালক ও জ্বালানি ব্যবহার না করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলাচল, প্রটোকল কমানো এবং শনিবারেও অফিস করছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। তার এসব উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই অবিরাম ছুটে চলছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ব্যক্তিগত গাড়ি, নিজস্ব চালক ও নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করবেন তার চলাচলের জন্য। জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে আগে ১৩-১৪টি গাড়ি থাকত সেই বহরে গাড়ি কমিয়ে ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় সড়কের দুইপাশে পুলিশের সারিবদ্ধ অবস্থান নিতে হতো আগে, সেই প্রথা বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া সাধারণ চলাচলে গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জনভোগান্তি কমাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক অধিকাংশ সময় সচিবালয়ে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে ১৪টি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। একইভাবে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। ঈদের আগেই এই সম্মানীর টাকা বিতরণ কার্যক্রম শুরু করবে সরকার। এ ছাড়া ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কৃষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গ্রহণের লক্ষ্যে ৮ সদস্যবিশিষ্ট সেল গঠন করেছে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার। সেলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। সরকার দ্রুতই সারা দেশে ব্যাপকভাবে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সরকার সারা দেশে আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই ঐতিহাসিক কাজের শিগগিরই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। সেই সঙ্গে খালের দুই পাশে বনায়ন করারও সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এক কথায় যেন স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। অন্যরকম এক বাংলাদেশকে দেখছে বাংলাদেশের মানুষ। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চমকপ্রদসব নতুন নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে নতুন এক দিগন্তের পথে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর এবার জনতার স্বপ্নপূরণ যাত্রার শুরু হয়েছে বিএনপি সরকারের হাত ধরে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। জনতার প্রত্যাশা ও স্বপ্নকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার যাত্রা। এই যাত্রার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নেতৃত্বে গঠিত সরকার। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারের নানা সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ এরইমধ্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

নতুন সরকারের শুরু থেকেই ক্ষমতার চর্চায় ভিন্নধর্মী বার্তা দেখা যাচ্ছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় বিশাল গাড়ি বহর, দীর্ঘসময় রাস্তা বন্ধ রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির ঘটনা ছিল নিয়মিত দৃশ্য। তবে এবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের মতোই ট্রাফিক আইন মেনে চলাচল করছেন এবং নিজেকে জনগণের কাতারের একজন হিসেবে তুলে ধরছেন। যা অনেকের কাছে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের সিদ্ধান্তও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার বলছে, সংসদে ভারসাম্য রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ক্ষেত্রেও নতুন বার্তা এসেছে। নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু তাই নয়, বিরোধী দলের আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার বেশ কয়েকটি উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প, যা সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যেই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০টি খাল খনন এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল থেকে হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সে বার্তাই বহন করে বলে বিশ্লেষকদের মত।

রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ক্ষেত্রেও মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনে পদায়নের কথা বলা হচ্ছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা যোগ্য কর্মকর্তাদেরও প্রশাসনে রাখা হয়েছে। যা ধারাবাহিকতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও ব্যয়সংকোচনেও জোর দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হয়ে অধীনস্থদের উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন। রমজানে ব্যয়বহুল ইফতার আয়োজন পরিহার, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর কমানো এবং বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি কেনা বন্ধের মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সরল জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগতভাবে উদাহরণ স্থাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বড় গাড়ি বহর ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমানো, পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা পরিহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার মাধ্যমে তিনি জনগণকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। এদিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টার আগেই সচিবালয়ে প্রবেশ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ কাজ না থাকলেও তিনি সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে চলে আসছেন। এমনকি ছুটির দিন শনিবারেও তার কার্যালয়ে বসছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই নিয়মানুবর্তিতা এখন অভ্যাস বদলে দিচ্ছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। সচিবরাও এখন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে অফিসে হাজির হওয়ার চেষ্টা করছেন। এমনকি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে সবার আগে অফিসে এসে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। এতে অনেক কর্মকর্তার পুরোনো অভ্যাস বদলাতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত