
আজ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এবারের অধিবেশন অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জুলাই- আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সেই সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ফলে নতুন এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ইস্যুতে অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা রাজনীতির মাঠে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রাখেন। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেও জুলাই সনদ নিয়ে উত্তপ্ত ছড়াবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ সকাল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন। এটি ২০২৬ সালের প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন। এরআগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন। গণভোটে পাস হওয়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদে ওয়াকআউটও করতে পারেন জামায়াত-এনসিপি জোটের সংসদ সদস্যরা। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে আজ।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, অর্ন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। ১৩তম জাতীয় সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
প্রাণবন্ত সংসদ গড়তে চায় সরকার- চিফ হুইপ : সরকার একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমেই সংসদের ভেতরে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। বুধবার জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভাতের অধিকার নিশ্চিত করা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার লক্ষ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারই ধারাবাহিক প্রতিফলন হচ্ছে আজকের এই জাতীয় সংসদ।’ তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
এ সময় নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, ‘জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে, আগামীকাল থেকে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে।’ দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করে তিনি বলেন, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) যে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে, সেটি হবে জনগণের সংসদ, এই সংসদ হবে দেশের মানুষের অধিকার, আশা ও স্বপ্নের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল সংসদ পরিচালনা করা।’
তিনি বলেন, আমরা চাই সংসদে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা, যুক্তিপূর্ণ তর্ক ও সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি হোক। চিফ হুইপ বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা সংসদকে একটি কার্যকর ও অর্থবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
দেশের জনগণের সমর্থন কামনা করে নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, ‘দেশের জনগণের অকুন্ঠ সমর্থন কামনা করছি। একই সঙ্গে আমরা বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা ও সহযোগিতাও প্রত্যাশা করি।’ তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের সমাধান করা সম্ভব এবং সেই পথ ধরেই আমরা জাতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারব। সরকারের অঙ্গীকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, দারিদ্র্য দূর করা এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পরিশেষে একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
প্রথম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ২৯৬ জন গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই সংসদে সরকার দল, বিরোধী দলসহ যে সব দল নির্বাচনে জয় পেয়েছে তার সবগুলো দলীয় প্রধানরাই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও সংসদ সদস্য হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদের ২৯৬ জনের মধ্যে ২২৭ জন প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন : নিয়ম অনুযায়ী সংসদের সরকারি দল থেকে স্পিকার ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়ে থাকে। তবে এবার জুলাই সনদ ও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়া হবে। যে কারণে প্রথম সংসদ ডেপুটি স্পিকার পদের নির্বাচন নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশাও রয়েছে। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি স্পিকার পদে কাকে নির্বাচন করবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই দুই পদে নির্বাচনের পরই কিছু সময়ের জন্য সাধারণত ৩০ মিনিটের একটা বিরতি হয়। এই বিরতির মধ্যে সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। বিরতির মাঝে শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথের পর সংসদের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়। সেখানে রেওয়াজ অনুযায়ী নবনির্বাচিত স্পিকার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। পরে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী সভাপতিমন্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব, নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পর আবারো একটি বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির ও শপথের পর আবারো বৈঠক শুরু হয়। সেখানে রেওয়াজ অনুযায়ী নবনির্বাচিত স্পিকার স্বাগত বক্তব্য রাখবেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগে ডেপুটি স্পিকার চাইনি- গোলাম পরওয়ার : জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের আগে জামায়াত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ চায় না বলে জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় সংসদীয় কমিটির সভা চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পরওয়ার বলেন, সংসদীয় দলের বৈঠক চলছে। অধিবেশন শুরু হলে বিভিন্ন পর্বে আমাদের ১১ দলীয় সংসদ সদস্যরা কীভাবে কী ভূমিকা পালন করবেন— অনেক ইস্যু আছে, এগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
ডেপুটি স্পিকার চূড়ান্ত করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা জুলাই চার্টারের সঙ্গে জড়িত। অধিবেশন শুরু হলে আমাদের সংসদ সদস্যরা কথা বলবেন। আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা আছেন। তিনি আরও বলেন, এ প্রসঙ্গ এখনই প্রাসঙ্গিক নয়। অধিবেশন শুরু হবে, জুলাই চার্টার নিয়ে আলোচনা হবে, সংস্কার ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর বিরোধীদলীয় নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিরোধী দল বিষয়টি নাকচ করেছে কি না জানতে চাইলে পরওয়ার বলেন, নাকচ করেছি বলতে হবে— এই মুহূর্তে এভাবে আমরা ডেপুটি স্পিকার নিতে চাইনি। এটা সংসদে আলোচনা হবে, জুলাই সনদের প্রশ্নটা আগে নিষ্পত্তি হতে হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে জনগণ ক্ষমা করবে না- শিশির মনির : জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, ‘একটা ফ্যামিলি কার্ড আপনি দেবেন কি দেবেন না—এর মাধ্যমে আপনার অর্থনৈতিক সমস্যা দূর হবে না। কিন্তু আপনি যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে জনগণ আপনাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।’ বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা: উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই সনদ নিয়ে শিশির মনির বলেন, আমাদের ধারণা, পর্দার আড়ালে কেউ একজন এই খেলাটা খেলছে। আপনারা সেই পর্দাকে উন্মোচন করুন, তাহলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সরকার গঠনের আগের বক্তব্য এবং পরের বক্তব্য দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। জুলাই সনদ, গণভোট- এগুলো আইনের বিষয়, অথচ আইনমন্ত্রী এই বিষয়ে কথা বলেননি। আইনমন্ত্রীর বিষয়ে কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলছেন?
শিশির মনির বলেন, আমার মনে হচ্ছে বিএনপি একেবারেই বেমালুম ভুলে গেছে যে ২৪-এর জুলাইয়ে দেশে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল এবং এই সরকারটা জুলাই-পরবর্তী জনগণের সমর্থন দিয়ে বৈধতা পাওয়া সরকার। তারা মনে করছে এটা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সরকার। তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল, সেগুলোতেই তারা বিতর্ক করছে—এটা নেতৃত্বের দুর্বলতা। জনগণ ও এই প্রজন্মের সবাই এই সরকারের ধোঁকাবাজি ধরে ফেলেছে। এ সরকারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের যতক্ষণ পর্যন্ত জীবন আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত জুলাই সনদকে আইনের আওতায় এনে তাকে জয়যুক্ত করেই ছাড়বো ইনশাল্লাহ।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, গণভোটের পক্ষে বিএনপি নিজেও ঐকমত্য কমিশনে একমত হয়েছিল। আমরা সবাই সেদিন কোলাকুলি করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের পরে তারা সরাসরি গণভোটের বিপক্ষে চলে গেছে—কীভাবে সম্ভব এটা? তিনি বলেন, এখান থেকে মনে হচ্ছে তারা কোথাও ঋণী হয়ে গেছেন—যেই ঋণের কারণে তারা এখন ৬০ শতাংশ মানুষের রায়ের বিরুদ্ধে চলে গেছেন। আপনাদের আগের বক্তব্যগুলো কি আপনারা নিজেরাই অস্বীকার করবেন? কীভাবে আপনারা নিজেদের জনগণের দল বলে প্রচার করেন?
সংসদ অধিবেশন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন উপলক্ষ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভসহ নানা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার জারি করা এক আদেশে এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার।
আদেশে বলা হয়, আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্দিষ্ট এলাকায় সব ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরক, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। বুধবার রাত ১২টা থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং সংসদের অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে- মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত ময়মনসিংহ রোড, বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত এলাকা, পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোড সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত সড়ক, মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণি থেকে পুরাতন উড়োজাহাজ ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণির পর্যটন ক্রসিং এবং ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত এলাকা। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার ভেতরে অবস্থিত সব রাস্তা ও গলিপথও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। ডিএমপি জানিয়েছে, সংসদ অধিবেশন চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।