ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

উত্তাল মার্চ

পাকিস্তান দিবসের কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা

পাকিস্তান দিবসের কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা

১৯৭১ সালের ১২ মার্চ ছিল অসহযোগ আন্দোলনের পঞ্চম দিন। জাতীয় পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরউদ্দিন পাকিস্তান সরকারের দেয়া খেতাব বর্জন করেন। পূর্ব বাংলার চলচ্চিত্র প্রদর্শকরা অসহযোগ আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে অনির্দিষ্টকাল প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। অব্যাহত আন্দোলনে সরকারি-আধাসরকারি অফিসের কর্মচারীরা কর্মস্থল বর্জন করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা, সরকারি ও বেসরকারি ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসগৃহ ও যানবাহনে কালো পতাকা উড়তে থাকে।

দৈনিক পাকিস্তান এদিন এক খবরে জানায়, বাঙালি সিএসপি কর্মকর্তারা চলমান আন্দোলনের সমর্থনে মিছিল করেছেন। এদিন লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে গণঐক্য পাকিস্তান দিবসের আন্দোলনের প্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান বলেন, পূর্বাঞ্চলের জনসাধারণ সমান অধিকার নিয়ে থাকতে চায়, পশ্চিমাঞ্চলের দাস হিসেবে নয়। পাকিস্তানকে রক্ষা করার একটিমাত্র পথ খোলা। এইদিনে লন্ডনের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী বল প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক। তবে তারা এও বলে, শক্তি প্রয়োগ নিষ্ফল ও বিপজ্জনক হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের পরিবারবর্গকে স্বদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যে আমলাতান্ত্রিক সিএসপিরা পাকিস্তানের শাসক ও শোষকের প্রতিনিধিত্ব করতো তাদের একটি অংশ এদিন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের গণআন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। এ ছাড়া একই দিন সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত সমন্বয় পরিষদ নির্দেশ পালনের ব্যাপারে শপথ গ্রহণ করে। বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে তারা এক সভায় মিলিত হয়ে চাকরি থেকে বিরত থাকার প্রতি পুনরায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। অপর এক প্রস্তাবে ৬ মার্চ ষড়যন্ত্রের প্রধান হোতা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার পূর্ব বাংলার বিপ্লবী জনতা ও গণবিপ্লব সম্পর্কে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার ও এই ভাষণে সত্যের অপলাপ থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় ও তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন সড়কে মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা দেন। এ ছাড়া মগবাজারে ছাত্র জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্রনেতা নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন বৃহৎ ব্যবসায়ী ও দ্রব্যমূল্য না বাড়ানোর জন্য হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ন্যাপের ওয়ার্কিং কমিটির এক সভায় বাংলাদেশের শোষিত শ্রেণিগুলোর মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানানো হয়। অপরদিকে এই দিনে ময়মনসিংহ থেকে মাওলানা ভাসানী জনগণকে আহবান জানিয়ে বলেন, জনগণ কাউকে আপস করতে দেবে না।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত