
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বক্তৃতার সময় ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীনবিরোধী জোট। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি সংসদে বক্তৃতা করা শুরু করলে রাষ্ট্রপতি সংসদে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চস্বরে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করে জামায়াত জোটের সাংসদরা। তারা বলেন, ‘কিলার চুপ্পু। কোনো খুনির জায়গা এই পবিত্র সংসদে মানি না।‘ ‘শেম শেম বলে চিৎকার করেন এবং বলেন, তাকে অভিশংসন করতে হবে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা আরও বলেন, ‘আমরা জাতীয় সঙ্গীতের সম্মানে দাঁড়াব; কিন্তু তার সম্মানে নয়। গেট গেটআউট।’ জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি (রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন) শেখ হাসিনার খুনের সহযোগী।’
রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেওয়ার সময়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি জনগণ মানবে না’। সংসদ কক্ষে এ সময় কিছুক্ষণ হট্টগোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্পিকার বারবার বিরোধী জোটের সদস্যদের আসনে বসার আহ্বান জানালেও তারা কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে থাকেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে হাসিমুখে টেবিল চাপড়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন টেবিল চাপড়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা হাসিমুখে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের শুরুতেই অভিনন্দন জানান। বিএনপির নেতারা রাষ্ট্রপতির ভাষণে সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ গঠন সংক্রান্ত সাফল্যকে স্বাগত জানান এবং সংসদে স্বাচ্ছন্দ ও আন্তরিক মনোভাব প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতিকে আমরা দফায় দফায় প্রত্যাখ্যান করেছি- জামায়াত আমির : জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সরকারিদলকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, স্পিকারকেও অনুরোধ করেছিলামণ্ড রাষ্ট্রপতিকে যেন ভাষণ দিতে না দেওয়া হয়। তারা আমাদের কথা গ্রাহ্য করেননি। তাই আমরা ক্ষুব্ধ হয়ে বের হয়ে এসেছি। আগামীতে এই সংসদে কোনো অন্যায় মেনে নেব না। আমরা জনগণের স্বার্থ ও অধিকারের পক্ষে লড়াই করে যাব। তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রপতিকে আমরা দফায় দফায় প্রত্যাখ্যান করেছি, অস্বীকার করেছি। গত দেড় বছর থেকে আমরা দফায় দফায় রাষ্ট্রপতির নীতিগত বৈধতা অস্বীকার করেছি।
জামায়াত আমির বলেন, এই সংসদ কারও একার নয়, ১৮ কোটি মানুষের সংসদ। জনগণের অধিকারের জন্য লড়াই করতে এসেছি। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের রায়কে সম্মান করি, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি, আপনারাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন।
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে হাসনাত বললেন ‘গেট আউট চুপ্পু’ : রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান ও হট্টগোলের পর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্যসংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদ কক্ষে ‘গেট আউট চুপ্পু’ এবং ‘জুলাইয়ের গাদ্দারকে চাই না’ বলে তীব্র স্লোগান দেন। এ সময় দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেন। এক পর্যায়ে পুরো সংসদ কক্ষে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে শপথ করিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। এর আগে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
স্পিকার পদে একটি মনোনয়ন উত্থাপিত হয় জাতীয় সংসদে। প্রস্তাব করেন বরগুনা-২ সংসদীয় আসনের সদস্য নুরুল ইসলাম এবং সমর্থন করে খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম। প্রস্তাবটি সংসদে উত্তাপিত হলে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে তা পাস হয়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। নেত্রেকোনা-১ এর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কাইসার কামালের নাম প্রস্তাব করে নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন লক্ষীপুর-৪ এবিএম আশরাফ উদ্দিন মিজান। ব্যারিস্টার কাইসার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করার জন্য সংসদে কণ্ঠভোটে দেওয়া হয়। কণ্ঠভোটে তিনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে। আজ থেকে আপনারা আর কোনো দলের নন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আপনারা গণতন্ত্রকামী জনগণের রক্তঋণে প্রতিষ্ঠিত এই মহান জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। আপনাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। আজ থেকে আপনারা আর কোনো দলের নন। এই মহান জাতীয় সংসদের স্পিকার। আজ থেকে এই মহান সংসদের নির্বাচিত প্রত্যেক সদস্য আপনাদের চোখে সমান। আপনারা এই সংসদের অভিভাবক। তিনি বলেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া, কেড়ে নিয়ে জনগণকে দুর্বল জনগোষ্ঠীতে পরিণত করা হয়েছিল। মহান জাতীয় সংসদকে মানুষের অধিকার লুণ্ঠনকারীদের ক্লাবে পরিণত করা হয়েছিল। বিগত দেড় দশকে যারা নিজেদের এমপি পরিচয় দিয়েছিল তারা কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না। কিন্তু আজ এই সংসদে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংসদ। আজকের এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের সংসদ। আপনারা আজ এই মহান সংসদের অভিভাবকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে।
পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করলেন স্পিকার : স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের বৈঠক পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। স্পিকার যে পাঁচজন সংসদ সদস্যকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন তারা হলেন- মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম। স্পিকার জানান, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের বৈঠকে সভাপতিমণ্ডলীর তালিকায় যার নাম শীর্ষে থাকবে, তিনিই স্পিকারের আসনে বসে অধিবেশন পরিচালনা করবেন।
প্রসঙ্গত, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধিতে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়নের বিধান রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রত্যেক অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে অনধিক পাঁচজনকে নিয়ে একটি সভাপতিমণ্ডলী গঠন করবেন এবং তাদের নাম প্রাধান্যক্রমে সাজাবেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বৈঠকে উপস্থিত সভাপতিমণ্ডলীর তালিকায় যার নাম শীর্ষে থাকবে, তিনি সভাপতির আসন গ্রহণ করবেন। এছাড়া কার্যপ্রণালী-বিধিতে উল্লেখ আছে, সংসদের কোনো বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় ডেপুটি স্পিকার বা অন্য যে ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করবেন, তারও স্পিকারের মতোই একই ক্ষমতা থাকবে। স্পিকারের ক্ষেত্রে বিধিতে যে ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে, তা সভাপতিত্বকারী অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩ অধ্যাদেশ উপস্থাপন : ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন। বিগত দিনে সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজনে ও সংস্কারের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর প্রথম অধিবেশনেই এগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৩, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫, সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫, ৪১. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ উপস্থাপন করা হয়।
খালেদা জিয়া, মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জনকে স্মরণে সংসদে শোকপ্রস্তাব : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী অধিবেশনে নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম শোকপ্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্বও করেন তিনি।
শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশ হারিয়েছে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান চিরস্মরণীয়। জাতীয় সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশি নেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ তালিকায় রয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এছাড়া অধিবেশনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়। উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, সাবেক সেনাপ্রধান কে. এম. সফিউল্লাহ, সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, গণফোরাম নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে খন্দকার এবং রমেশ চন্দ্র সেনসহ মোট ৩১ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন ঢাকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা। এরমধ্যে ঢাকার কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন। ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করায় বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রক্রিয়ার প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
ঢাকার ফ্রান্স দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফ্রেডেরিক ইনজা বলেন, বাংলাদেশের ১৩তম সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দেশের স্থায়ী অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমরা নবনির্বাচিত সংসদের বাংলাদেশের জনগণের সেবা এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য একটি ফলপ্রসূ এবং সফল যাত্রা কামনা করি।
ঢাকার কানাডীয় হাইকমিশন এক বার্তায় জানিয়েছে, ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং সংসদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এটা বাংলাদেশের জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই ঐতিহাসিক অধিবেশন উদ্বোধন প্রত্যক্ষ করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরল্ড গুলব্রান্ডসেন, ননেদারল্যান্ডস দূতাবাসের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স কর স্টুটেন প্রমুখ যোগ দেন।
সংসদ অধিবেশন ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে এ মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংবিধান অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। তার ভাষণ শেষে সংসদ অধিবেশনের মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। আগামী রোববার বেলা ১১টার পর পুনরায় সংসদ অধিবেশন শুরু হবে।