
ইসলাম কোনো বিশেষ দেশ অঞ্চল ভাষা বা বর্ণের ধর্ম নয়। ইসলাম যে খোদায় বিশ্বাস করতে বলে তিনি রাব্বুল আলামিন, সমগ্র জগতের প্রতিপালক। শুধু মানবজাতি নয়, সৃষ্টিজগতের সবকিছুর সৃষ্টি ও লালনপালনকর্তা তিনি। ইসলামের নবীর পরিচয়, তিনি রাহমাতুল লিল আলামিন। আল্লাহর সৃষ্টির সবকিছুর প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ তিনি।
আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্যের সূত্রে পৃথিবীর যেকোনো দেশ ও বর্ণের, প্রত্যেক মুসলমান এক সমন্বিত জাতিসত্তার অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যেকেই অভিন্ন জাতিসত্তার অংশ। সে হিসাবে পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক, অন্য মুসলমানের সুখ দুঃখের অংশীদার প্রত্যেক মুসলমান। কোরআন শরিফে বলা হয়েছে, মুসলমানরা পরষ্পর ভাই ভাই (সূরা হুজরাত-আয়াত-১০)
আল্লাহ পাক মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ক কী ধরনের হওয়া চাই, তার ধরণ নির্ণয় করে দিয়েছেন এই আয়াতে। অর্থাৎ ভাই ভাইয়ের সম্পর্ক। এই সম্পর্ক ও দায়িত্ববোধ শুধু মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দুনিয়ার প্রতিটি মজলুম মানুষের প্রতিও দায়িত্ব রয়েছে প্রত্যেক মুসলমানের। ইসলামের ইতিহাসে কালজয়ী কবি ও ভাষ্যকার শেখ সাদী ইসলামের বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এই চেতনাকে ধারণ করেছেন ছয় লাইনের একটি ফারসি কবিতায়। বলেছেন-
বনি আদম আজায়ে য়্যক দীগরান্দ
কে দর আফরীনশ যে য়্যক গওহারান্দ
আগর উজবী বেদরদ আওয়ারাদ রূজেগার
দীগর উজবহারা নমানদ কারার
তু কায মেহনতে দীগরান বীগমী
ন শায়দ কে নামত নেহান্দ আদমী
‘আদম সন্তান একে অপরের অঙ্গস্বরূপ।
কারণ সৃষ্টিজগতভাবে তাদের উৎস এক।
যদি দেহের কোনো অঙ্গ কালের চক্রে ব্যাথায় কাতর হয়।
অন্য অঙ্গগুলো তখন অস্থির হয়ে পড়ে।
তুমি যে অন্যের কষ্ট দেখার পরও নিশ্চিন্ত
তোমাকে মানুষ বলাটাই বড় অন্যায়’।
হাদিস শরিফের মর্মবাণীকেই শেখ সাদী তার কবিতায় ধারণ করেছে। নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন : পারস্পরিক বন্ধুত্ব, দয়ামায়া ও সম্পর্কের ব্যাপারে তুমি মুমিনদের একটিমাত্র দেহের মতো দেখতে পাবে। এই দেহের একটি অঙ্গ যদি ব্যথায় কাতর হয়। অন্য অঙ্গগুলো জ্বরে আক্রান্ত হয় ও বিনিদ্র রাত কাটায়।
এই বছর পবিত্র রমজানের শুরুতেই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের উপর আক্রমণ চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল উজমা সৈয়দ আলী খামেনীকে হত্যা করে এবং তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নির্বিচারে বোমা ও ক্ষেপানাস্ত্র হামলা চালায়। ইরান প্রচণ্ড প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুসলিম বিশ্বের নেতারা এই আক্রমণের সামান্য নিন্দা জানানোর সাহসও হারিয়ে ফেলেছে। এ অবস্থায় ইরান একা লড়ে যাচ্ছে। আমরা ইরানের উপর মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে যুদ্ধরত ভ্রাতৃপ্রতিম ইরানি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি।