ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি

সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন না হলে আন্দোলন

সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন না হলে আন্দোলন

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না হলে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। আগামী ২৮ মার্চ বৈঠক করে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হবে। এরপর পর ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামবে ১১ দল। গতকাল শনিবার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেভাবে বলা আছে সে অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আজ (রোববার) সরকারের জন্য শেষ দিন। অবিলম্বে যেন সরকার অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা নেন। তিনি বলেন, যদি না নেন তাহলে আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, জাতির কাছে আপনারা ক্ষমা পাবেন না। বিশেষ করে সংসদ নেতাকে এটা প্রধানত দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারকেও সে দায়িত্ব নিতে হবে। জনগণকে সরকারের অবহেলা-অবজ্ঞা জনমতকে উপেক্ষা করে চলা, জনগণকে অপমানিত করার দায় নিতে হবে। দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে এবার আমাদের সংসদ সদস্যরা সংসদে ভূমিকা রাখবেন।

আযাদ বলেন, আমরা গতকাল বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, রোববার যদি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অধিবেশন না ডাকে, তাহলে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হবো। ঈদের পর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডেকে কর্মসূচি দেবো।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াঁজো কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সবারই উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন বৈঠকে। দেশে দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচন হয়েছে। জনগণ আশা করেছিল একটি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের কমিশন বা প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সবারই সবসময় একটি বক্তব্য আমাদের সামনে এসেছিল সেটা হচ্ছে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন। ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হয়েছে। তবে জনগণের ভোটাধিকারের প্রতিফলনের নির্বাচন হয়নি। নির্বাচনে হাঙ্গামা কম হয়েছে। তুলনামূলকভাবে কিন্তু বাস্তবে যে জনআকাঙ্ক্ষা, নির্বাচনে সেটা হয়নি।

‘অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টাকে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদ অন্তর্ভুক্ত করেই পরিষ্কার করা হয়েছে যে তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে মূল কারা কারা জড়িত। বিশেষ করে রেজাল্টের ক্ষেত্রে সেটা প্রতিফলনটা ঘটে নাই। তারপরও ইলেকশন আমরা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে মেনে নিয়েছি। শপথ নিয়েছেন আমাদের নির্বাচিত সদস্যরা।’

তিনি বলেন, জুলাই আদেশের উপর প্রেসিডেনসিয়াল অর্ডার হয়েছে, সেই আদেশের উপরে গণভোট হয়েছে। গণভোটে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ পক্ষে রায় দিয়েছে। জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য ভোট আর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ভোট। জুলাই সনদের আদেশের ভোটটা মানে হলো সংবিধান পরিষদ গঠনের ভোট। এই দুইটা ভোট একই দিনে হয়েছে। একই দিনে ভোটের রেজাল্ট হয়েছে। গেজেট নোটিফিকেশন হয়েছে। তাহলে জনগণের রায়ে জনগণের ভোটে পাস হওয়ার পর সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এটার বাস্তবায়ন করা। আর জাতীয় সংসদ যেভাবে অনুরূপভাবে এই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। অথচ মাত্র একটি সংসদের অধিবেশন ডাকা হয়েছে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপির সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের সদস্য শপথ নিয়েছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথটা নেননি। সংস্কারের জন্য ঐক্যমত কমিশন অংশগ্রহণ করলেন জুলাই সনদ তৈরি হলো। একই দিনে গণভোট হলো, হ্যাঁ জয়ী হল। নির্বাচন শেষ ও সরকার গঠন করা মাত্রই ইউটার্ন নিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নেওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল, জনগণকে অসম্মান করা।

তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন ডাকার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী লিখিত কি পরামর্শ দিয়েছেন এটা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের যে অনিহা, অসৎ ইচ্ছা, যে কারণে কিন্তু আজ পর্যন্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অধিবেশন ডাকা হয়নি। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।

আযাদ বলেন, কাল ৩০ দিন শেষ হবে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী। এর মধ্যে যদি সরকার সংবিধান পরিষদের অধিবেশন না ডাকে বা ডাকার ব্যবস্থা না করে তাহলে আমরা ১১ দল আজকের (শনিবার) এই বৈঠকে শীর্ষ নেতারা পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি রাজপথে নামবো। নামতে বাধ্য হব। তিনি বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী, আগামী দিনটিই এই সরকারের জন্য শেষ দিন সংসদ অধিবেশন ডাকার। অবিলম্বে যেন সরকার অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা নেন। যদি না নেন তাহলে আমরা স্পষ্ট বলতে চাই জাতির কাছে আপনারা ক্ষমা পাবেন না।

‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয় অর্থাৎ রোববারের মধ্যে যদি উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের সম্মান মর্যাদা আকাঙ্ক্ষা সমুন্নত রাখার জন্যেই আমরা রাজপথের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো এবং খুব সহসা শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আবদুল আব্দুল মাজেদ এবং এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির, জাকপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ এবি পার্টি ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত